রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভবিষ্যতের জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে এই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা


Dr-Yunus (

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত—সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার।

ভাষণের শুরুতে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য জনগণ, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত ১৮ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে তিনি জাতির কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ছোট-বড়, ভালো-মন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। এই সনদ রচনা এবং গণভোটে পাস করানোর জন্য আমি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের সবাইকে আজ অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আজ বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে আপনাদের কিছু কথা বলব। কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি প্রায় অচল রাষ্ট্রকে সচল করাই ছিল সরকারের সবচেয়ে কঠিন কাজ। রাষ্ট্র পরিচালনায় আস্থার সংকট, প্রশাসনিক ভাঙন ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই সরকারকে এগোতে হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে স্মরণীয় উল্লেখ করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দেড় যুগ পর দেশে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।

তিনি নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত—উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, হার–জিতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

ভাষণে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল তিনটি- সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষায়, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।