রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক


Adani

ফাইল ছবি

ভারতের আদানি গ্রুপ–এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে চার মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। বৈঠকে আদানির সঙ্গে করা চুক্তিসহ বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়েও আলোচনা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় রিভিউ কমিটি ইতোমধ্যে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা করে সেটিকে দেশের জন্য অস্বচ্ছ ও অসম বলে উল্লেখ করেছে। কমিটি চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা অথবা বাতিলের সুপারিশ করেছে। বৈঠকে ওই সুপারিশগুলো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে করা কিছু চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো পর্যালোচনা শুরু করেছে। জনস্বার্থ, আর্থিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বিধিবিধান বিবেচনায় রেখেই আদানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রমজান, সেচ ও গ্রীষ্মকাল সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক অবস্থা নিয়ে দ্রুত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় কমিটির সদস্য ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খানও এতে অংশ নেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, জাতীয় কমিটির সুপারিশ সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে আরও আলোচনা চলবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–এর ঢাকা সফরের সময় বিপিডিবির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে আদানির সঙ্গে প্রকল্পের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২৫ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সই হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিলে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় বিদ্যুতের মূল্য ও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির কিছু শর্ত দেশের জন্য আর্থিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকার বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখছে।