রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল


shahid-minar

ছবি: সংগৃহীত

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নেমেছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য শহীদ মিনারে ভিড় করেন।

দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপর সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। খালি পায়ে, হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে শহীদ বেদিতে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ একা, কেউবা পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের সঙ্গে এসে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন।

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগ করেছিলেন ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদরা। তাদের সেই আত্মদান আজও বাঙালির চেতনায় অম্লান। একুশ এখন শুধু শোকের নয়, গৌরব, আত্মমর্যাদা ও ভাষাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক।

বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকেই ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। অনেকের হাতে ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার আহ্বানসংবলিত প্ল্যাকার্ড।