বুধবার । মার্চ ১১, ২০২৬
বিজনেস ডেস্ক বিজনেস ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশে দাম বাড়লো ডলারের


reserve

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে। যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) সংগ্রহের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডলারের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ব্যাংকগুলো প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে প্রবাসী আয় কিনেছে, যার ফলে আমদানিকারকদের জন্য ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্যমতে, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও আমদানির দায় মেটাতে ডলারের দাম ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা। সাত দিনের ব্যবধানে আমদানিতে ডলারের দাম অন্তত ৫০ পয়সা বেড়েছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমদানিকারকরা।

তাদের মতে, ব্যাংকগুলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অজুহাতে ডলারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা সরাসরি আমদানিকৃত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন খরচ বাড়িয়ে দেবে। ফলে অচিরেই ভোক্তাপর্যায়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের বিপরীতে আগের চেয়ে বেশি দর প্রস্তাব করছে। আগে যেখানে ১২২ টাকা দরে ডলার কেনা যেত, এখন তা ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্যাংকগুলোও বাড়তি দামে ডলার সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডলারের দাম যেন ১২৩ টাকা অতিক্রম না করে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমদানি দায় মেটানোর চাপ ও ডলারের সরবরাহ কমে গেলে কেবল মৌখিক নির্দেশনায় দাম ধরে রাখা কঠিন হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে রিজার্ভ থেকে ডলার সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি মুদ্রার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।