
ইসরায়েলের মিসাইল ধ্বংসকারী ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র || ছবি: সংগৃহীত
আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে ইসরায়েলের হাতে থাকা শত্রুর মিসাইল ধ্বংসকারী ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত । ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এ মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফরকে এই তথ্য জানিয়েছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত গ্রীষ্মে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করার পর থেকেই ইসরায়েলের মজুত কমে ছিল। নতুন করে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির দূরপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের এই সীমাবদ্ধতার বিষয়টি কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্র জানত। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম।’
সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার মিউনিশন যুক্ত করছে। এতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে এবং ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজে একই ধরনের সংকটে নেই বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টরের মজুত এখনো পর্যাপ্ত। যদিও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত চললে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টরের কোনো অংশ ইসরায়েলকে বিক্রি বা সরবরাহ করবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেসিসহ অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি এবং বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।












































