
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে আবারও ইরানকে ভয়াবহ সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত না করে, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হামলা চালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প এই আলটিমেটাম দেন।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো রকম হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত করবে এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে; আর এর শুরুটা হবে সবচেয়ে বড় কেন্দ্রটি দিয়ে!’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান মাত্র একদিন আগে দেওয়া তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে বলেছিলেন।
ট্রাম্পের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং অভ্যন্তরীণ চাপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেছিলেন হরমুজ প্রণালী ‘একটা নির্দিষ্ট সময়ে নিজে থেকেই খুলে যাবে’, কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই নৌপথটি দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ থাকার আশঙ্কা এড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার কোনো সহজ বা স্পষ্ট সামরিক সমাধান বর্তমানে তাদের হাতে নেই।
ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত করার এই নতুন হুমকি ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরের এক চরম রূপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এটি পরোক্ষভাবে এই সত্যটিই প্রতিষ্ঠিত করছে যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখা বর্তমানে ইরানের একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক ও সামরিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এই আলটিমেটামের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।



































