শনিবার । এপ্রিল ৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ৩ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বিএনপি’


Ataur-Rahman

সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে উপেক্ষা করে বিএনপি সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা করেছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেওয়া এক তীব্র প্রতিবাদী বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

গাজী আতাউর রহমান জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী সমাপ্তি। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানের স্বৈরতান্ত্রিক সুযোগগুলো বিলোপ এবং ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তার দাবি, ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত এই অধ্যাদেশগুলোকে সংসদে অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল বিএনপির।

কিন্তু তার অভিযোগ, “স্বৈরতন্ত্রের পথ রোধ করতে পারে এমন বেশির ভাগ অধ্যাদেশই বিএনপি বাতিল বা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা পতিত স্বৈরতন্ত্রেরই পথ অনুসরণ করল।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠা ও এর প্রথম মেয়াদের ক্ষমতা সংহত হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমেই। এবারও গণভোটের সিদ্ধান্ত বিএনপিকে সঙ্গে নিয়েই হয়েছে এবং তারেক রহমান নিজেও গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। অথচ এখন একই বিএনপি ‘অতি-সাংবিধানিকতার’ দোহাই দিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ—সবকিছুতেই বিএনপি পদ্ধতিগতভাবে বাতিলের পথে হাঁটছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করার অধ্যাদেশগুলোও বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিবৃতির শেষ অংশে গাজী আতাউর রহমান বলেন, “বিএনপি যেহেতু স্বৈরশাসনের নিপীড়নের শিকার হয়ে আজকের অবস্থায় এসেছে, তাই তাদের এমন অবস্থান দুঃখজনক। আমরা আবারও সরকারকে অনুরোধ করছি—জনতার রক্তের সঙ্গে বে-ইমানি করবেন না। স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন করুন।”