শুক্রবার । এপ্রিল ১০, ২০২৬
টেক ডেস্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যেভাবে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে আর্টেমিস–টু ক্যাপসুল


orion capsule

ওরিয়ন মহাকাশযান ।। আর্টিফিসিয়াল ছবি

চাঁদকে ঘিরে ঐতিহাসিক মিশন শেষে পৃথিবীতে ফিরতে যাচ্ছে নাসার আর্টেমিস–টু অভিযানের চার নভোচারী। তবে পুরো অভিযানের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি হবে ওরিয়ন মহাকাশযানের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ।

নাসা জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে আজ (শুক্রবার, ১০ এপ্রিল) সম্পন্ন হবে।

কখন এবং কোথায় অবতরণ করবে
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ওরিয়নের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ ও অবতরণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায়:
সন্ধ্যা ৭:০৭ (CDT)
রাত ৮:০৭ (EDT)
বিকেল ৫:০৭ (PDT)

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের প্রায় ২০ মিনিট আগে, সন্ধ্যা ৬:৩৩ (CDT) নাগাদ মহাকাশযানের সার্ভিস মডিউল আলাদা হয়ে যাবে। এরপর ওরিয়ন নির্দিষ্ট অবতরণ এলাকায় পৌঁছাতে তার উড্ডয়নপথ ঠিক করতে কয়েকটি নিয়ন্ত্রণমূলক ঘূর্ণন সম্পন্ন করবে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ঠিক আগে ওরিয়নের গতি পৌঁছাবে প্রায় ২৩,৮৬৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা।

কীভাবে ধীর হবে মহাকাশযান
বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর মহাকাশযানের গতি কমাতে ব্যবহার করা হবে একাধিক প্যারাশুট।

প্রায় ২২,০০০ ফুট উচ্চতায় প্রথম প্যারাশুট খুলবে (৭:০৩ CDT)। এরপর প্রায় ৬,০০০ ফুট উচ্চতায় আরও প্যারাশুট খুলবে।

নাসার আর্টেমিস–টু প্যারাশুট সিস্টেম ম্যানেজার জ্যারেড ডম জানান, প্যারাশুটগুলো বিশেষ পাইরোটেকনিক (বিস্ফোরণচালিত) ব্যবস্থা দিয়ে মহাকাশযান থেকে বের করা হয়।

তিনি বলেন, ‌‘আমরা একটি ব্যাগে প্যারাশুট ভরে সেটিকে একটি ক্যাননের মতো ব্যবস্থায় রাখি, পেছনে পাইরোটেকনিক যুক্ত করি এবং তা বিস্ফোরণের মাধ্যমে বাতাসে ছুড়ে দিই।’

এই প্যারাশুটগুলো মহাকাশযানকে মাত্র ১৩ মিনিটে ৪ লাখ ফুট উচ্চতা থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠে নামিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

অবতরণের পর কী হবে
ওরিয়ন সমুদ্রে নামার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত কাজ শুরু করবে। নভোচারীদের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হবে। এরপর তাদের নেওয়া হবে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে। সেখানে তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশে প্রায় দেড় সপ্তাহ কাটানোর পর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে ফিরলে নভোচারীদের কিছুটা মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বিজ্ঞানী জেসন নরক্রস বলেন, অনেক সময় নভোচারীরা হাঁটার সময় মাথা ও শরীরকে একসঙ্গে শক্তভাবে ধরে রাখেন, যাতে মোশন সিকনেস কম হয়।

এরপর নাসার পরিকল্পনা
সমুদ্রে অবতরণের পর নভোচারীরা বিমানে করে হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে ফিরে যাবেন এবং সেখানে মিশনের চূড়ান্ত বিশ্লেষণ করা হবে।

নাসার কর্মকর্তারা আশা করছেন, আর্টেমিস–টু মিশন মানবজাতিকে আবার চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে থাকবে।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প