
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) লেনদেন শুরু হতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে গত কয়েক দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭১১ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি গত ৭ এপ্রিলের পর থেকে সোনার সর্বনিম্ন দাম। অন্যদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচারেও (জুন ডেলিভারি) বড় পতন দেখা গেছে। সেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭৩২ দশমিক ৮০ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। সাধারণত বৈশ্বিক অস্থিরতা বা উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। তবে বর্তমানে উচ্চ সুদের হারের কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনার ওপর থেকে চাপ কমিয়ে আনছেন। যেহেতু সোনা একটি সুদবিহীন সম্পদ, তাই সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনার বাজারে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এছাড়া বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মানও গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে। ফলে বাজারে চাহিদাও কিছুটা নিম্নমুখী।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, তেলের বাজারের অস্থিরতা এবং অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় স্বল্পমেয়াদে সোনার দামের ওপর এই চাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।











































