
ফাইল ছবি
প্রায় দুই মাস বিরতির পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনা এবং ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা কাট-অফ রেটে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে। এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিলামের মাধ্যমে ১২২ টাকা ৭০ পয়সা দরে ৭০ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। সব মিলিয়ে চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত ১২০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চলতি সপ্তাহে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কেনার জন্য ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নিলামে তুলনামূলক কম দামে ডলার কেনার মাধ্যমে বাজারে একটি বার্তা দেওয়া হয়—ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সার আশপাশে স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে বাজারে সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে ডলারের সরবরাহ। ডলারের দর অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দামে কিনছে। এটি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক বেশি দামে ডলার কিনেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানতে পেরেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডলারের দর আবার কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের বাজারভিত্তিক হস্তক্ষেপ মূলত বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।









































