
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দিনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। পেশাদার কূটনীতিক নয়, এবার রাজনৈতিক নেতাকে পাঠাচ্ছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করে। দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দিনেশ ত্রিবেদী হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার। খবর হিন্দুস্থান টাইমস।
দীর্ঘদিন পর প্রতিবেশী কোনো দেশে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব দেওয়ার নজির তৈরি হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, ঢাকায় নিযুক্ত হওয়ার আগে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সরকারের সম্মতি নিতে হবে। কিন্তু ভারতের এই সিদ্ধান্তকে শুধু কূটনৈতিক পদায়ন নয়, বরং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্যও একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে—যে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো কেবল ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের জন্য সংরক্ষিত নয়।

দিনেশ ত্রিবেদী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের সময় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে বর্তমানের ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সদস্য। সদস্য ছিলেন। তৃনমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন সময়ে তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
দিনেশ ত্রিবেদীর বাবা-মা দুজনৈই গুজরাটী হলেও তার বেড়ে ওঠা পুরো কর্মজীবন পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক। চমৎকার বাংলাও বলতে পারেন।
তার এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের পর পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানো ভারতের পক্ষ থেকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ‘হেভিওয়েট’ প্রতিনিধিদের পাঠানোর নীতি জোরদার হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এর আগে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে কূটনৈতিক পদে অ-ক্যারিয়ার ব্যক্তিদের নিয়োগের প্রবণতা যে বাড়ছে, ত্রিবেদীর নিয়োগ সেই ধারারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে ঢাকায় দায়িত্ব পালনরত পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মা-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন ত্রিবেদী। ভার্মাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাসেলসে পাঠানো হচ্ছে।




































