
জন টারনাস প্রায় ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত
অ্যাপলের দীর্ঘদিনের কর্মকর্তা জন টারনাস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় জন টারনাস জানিয়েছেন, তার ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় অ্যাপলে কাটিয়েছেন। স্টিভ জবসের সঙ্গে কাজ করার এবং টিম কুককে মেন্টর হিসেবে পাওয়া তার জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
কী করেন জন টারনাস?
বর্তমানে জন টারনাস অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদে থেকে তিনি আইফোন, ম্যাকসহ অ্যাপলের প্রধান পণ্যগুলোর হার্ডওয়্যার উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নতুন উদ্ভাবন যেমন অ্যাপল ভিশন প্রো তৈরিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক, এয়ারপডস এবং আইফোনের নতুন প্রজন্মের পণ্য উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে নতুন ম্যাকবুক নিও এবং আইফোন ১৭ সিরিজ তৈরিতে তার দলের অবদান উল্লেখযোগ্য।

কতদিন ধরে অ্যাপলে আছেন?
জন টারনাস প্রায় ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ২০০১ সালে প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন এবং ২০১৩ সালে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। পরে ২০২১ সালে তাকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অ্যাপলের নির্বাহী দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অ্যাপলে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমসে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি পেনসেলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, টারনাসের এই পদোন্নতি খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়—গত এক বছর ধরেই তাকে সম্ভাব্য সিইও হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।
তার সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
সিইও হিসেবে টারনাসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। টিম কুক ২০১১ সাল থেকে সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অ্যাপলকে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করেছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে অ্যাপলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেছেন, ‘কুক অ্যাপলের জন্য একটি শক্তিশালী উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছেন। বিশেষ করে এআই খাতে শুরুতেই সাফল্য দেখানোর জন্য টারনাসের ওপর চাপ থাকবে।’
স্টিভ জবস যেখানে ঝুঁকি নিতে পছন্দ করতেন, সেখানে টিম কুক বিদ্যমান পণ্য ঘিরে পরিষেবা বাড়িয়ে স্থিতিশীল সাফল্য এনে দেন—যেমন অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস এবং অ্যাপল টিভি প্লাস।
এখন দেখার বিষয়, জন টারনাস কোন পথে এগিয়ে যান এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই দুনিয়ায় অ্যাপল নতুন বড় কোনো উদ্ভাবন আনতে পারে কি না।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল









































