শুক্রবার । এপ্রিল ১০, ২০২৬
টেক ডেস্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

চিন্তা ও উপলব্ধির মধ্যে মস্তিষ্ক যেভাবে বদলায়


Brain

চিন্তা ও উপলব্ধির মধ্যে মস্তিষ্ক যেভাবে বদলায়

মানুষের মস্তিষ্ক কখনও অতীতের স্মৃতি মনে করে আবার মুহূর্তেই সামনে থাকা কোনো মানুষের মুখে মনোযোগ দেয়। এ রহস্যের ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

চীনের বিজ্ঞান একাডেমির অধীন মনোবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে একটি গবেষণা দল মস্তিষ্কের একটি বড় স্নায়ু নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ গঠনগত নীতি আবিষ্কার করেছে। এই নেটওয়ার্ককে বলা হয় ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক।

ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক হলো মস্তিষ্কের কয়েকটি পরস্পর সংযুক্ত অংশের সমষ্টি, যা সাধারণত মানুষের অভ্যন্তরীণ চিন্তার সঙ্গে যুক্ত—যেমন অতীতের স্মৃতি মনে করা, ভবিষ্যৎ কল্পনা করা বা নিজের সম্পর্কে ভাবা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নেটওয়ার্ক বাইরের তথ্যভিত্তিক কাজেও সক্রিয় থাকে, যেমন ভাষা বোঝা বা আবেগ শনাক্ত করা। কিন্তু একই নেটওয়ার্ক কীভাবে এই দুই ধরনের কাজ সামলায়—তা এতদিন স্পষ্ট ছিল না।

বিষয়টি বোঝার জন্য গবেষকেরা তথ্যপ্রবাহের দিক, নেটওয়ার্কের গঠন এবং বিভিন্ন কাজের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক আসলে একক নয়; এটি কয়েকটি ভিন্ন উপঅঞ্চল নিয়ে গঠিত, এবং প্রতিটির নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস-এ।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্কের কিছু অংশ তথ্যের ‘প্রেরক’ এবং কিছু অংশ ‘গ্রাহক’ হিসেবে কাজ করে। গ্রাহক ধরনের অঞ্চলগুলো বাইরের পৃথিবী থেকে তথ্য গ্রহণে বেশি দক্ষ। এগুলো আমাদের আশপাশে যা দেখি বা শুনি তা বুঝতে মস্তিষ্ককে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্রেরক ধরনের অঞ্চলগুলো অন্য মস্তিষ্কীয় ব্যবস্থায় তথ্য পাঠায় এবং অতীতের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।

উন্নত মস্তিষ্ক-চিত্রায়ন প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকেরা দেখেছেন, এই দুই ধরনের অঞ্চল ভিন্ন ভিন্ন কাজে সক্রিয় থাকে। যেমন, কোনো মানুষ যখন চোখে দেখা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, যেমন একটি মুখ চিনে ফেলা—তখন গ্রাহক অঞ্চলগুলো বেশি সক্রিয় হয়। আর যখন সিদ্ধান্ত স্মৃতির ওপর নির্ভর করে, তখন প্রেরক অঞ্চলগুলো বেশি সক্রিয় থাকে।

গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী চাং মেইছাও বলেন, ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্কের ভেতরে প্রেরক ও গ্রাহক অঞ্চলের এই স্বাভাবিক বিভাজনই ব্যাখ্যা করে কেন এটি একই সঙ্গে বাইরের উপলব্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চিন্তার কাজে যুক্ত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, এই গবেষণা মানুষের মস্তিষ্কের উচ্চস্তরের চিন্তা নিয়ন্ত্রণকারী অংশ কীভাবে বাইরের জগৎ উপলব্ধি করা ও নিজের স্মৃতি মনে করার মধ্যে সহজে পরিবর্তন ঘটায়—তা বোঝার একটি নতুন ও সহজ উপায় তুলে ধরেছে।

সিএমজি

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প