মঙ্গলবার । মে ১৯, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৯ মে ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইউক্রেন যুদ্ধে লড়তে টাকার লোভ দেখিয়ে ইয়েমেনিদের টানছে রাশিয়া


Yemeni

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও স্বীকার করেন যে বিদেশিরা ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে

ইউক্রেন যুদ্ধে লড়ার জন্য ইয়েমেনের সাবেক যোদ্ধাদের মোটা অঙ্কের টাকা, মাসিক উচ্চ বেতন এবং রুশ নাগরিকত্বের প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়াচ্ছে রাশিয়া। এমন তথ্যই জানাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের তাইজ, মারিব বা সৌদি সীমান্তে আগে যারা হুথি বাহিনী, সরকারি সেনা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতসমর্থিত মিলিশিয়াদের হয়ে যুদ্ধ করেছে, তাদের অনেককে এখন রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে লড়াই করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

টাকার জন্য মৃত্যুর পথে
ইয়েমেনি তরুণ আহমেদ নাবিল ছিলেন পশ্চিম ইয়েমেনের রিপাবলিকান গার্ড বাহিনীর সদস্য। তার সহযোদ্ধা ফাওজি জানান, নাবিল মাসে প্রায় ২৬০ ডলার বেতন পেতেন। কিন্তু রাশিয়া থেকে আরও বেশি আয়ের প্রস্তাব আসায় তিনি প্রলুব্ধ হন।

ফাওজি বলেন, ‘২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে নাবিলসহ প্রায় ১০ জন সৈন্য রাশিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম যে ওখানকার যুদ্ধ খুব ভয়ংকর। কিন্তু তারা বলেছিল, যেকোনো যুদ্ধে লড়ার মতো অভিজ্ঞতা তাদের আছে।’

তার দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য যোদ্ধাদের ১৫ হাজার ডলার অগ্রিম, মাসে ৫ হাজার ডলার বেতন এবং রুশ নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

ফাওজি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও একসময় ইউক্রেন যুদ্ধে যাওয়ার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু দেখলাম, আমার পরিচিত প্রায় কেউই ফিরে আসেনি। তখন বুঝলাম, এই টাকা আসলে রক্তের বিনিময়ে দেওয়া হয়।’

ফিরে আসার আকুতি
গত এক বছরে রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন ইয়েমেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাদের অনেকে জানিয়েছেন, রুশ সেনাবাহিনীর এক বছরের চুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্রন্টলাইন থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই।

কেউ কেউ অন্যদের সতর্ক করে বলেছেন, ‘এখানে আসবেন না।’ আবার কিছু যোদ্ধার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তারা হয়তো যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

কয়েকজন ভিডিও বার্তায় ইয়েমেন সরকারের কাছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ছেলের মরদেহও দেখতে পারেননি মা
উম্মে তাওহিদ নামের এক নারী জানান, তার ছেলে তাওহিদ সৌদি সীমান্তে যুদ্ধ করতেন। পরে পরিবারের অজান্তে রাশিয়ায় যান। পরে একদিন তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার শেষ ইচ্ছা ছিল অন্তত ছেলের মরদেহটা একবার দেখা। সেটাও সম্ভব হয়নি।’

তাওহিদ তিন সন্তানের বাবা ছিলেন।

দারিদ্র্যতাই বড় কারণ
৩৭ বছর বয়সী মাহমুদ আল-সাবরি ইয়েমেনের বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের কাছে তিনি বলেছিলেন, কাজের জন্য জিবুতিতে যাচ্ছেন। পরে জানা যায়, সেখান থেকে রাশিয়ায় গেছেন। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে মাহমুদ ফোন করে বলেছিলেন, তিনি অন্য যোদ্ধাদের সঙ্গে একটি জঙ্গলে আছেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

প্রতারণার অভিযোগও আছে
শুরুতে অনেক ইয়েমেনিকে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। তাদের বলা হতো, রেস্তোরাঁ বা খামারে কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, তারা সামরিক ক্যাম্পে এবং বাধ্য হয়ে যুদ্ধের চুক্তিতে সই করতে হচ্ছে।

তবে বর্তমানে যারা যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই জানেন যে তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবেন।

গত মার্চ মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও স্বীকার করেন যে বিদেশিরা ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, কাউকে জোর করে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে না।