
বিতর্কের পরপরই স্টারবাকস কোরিয়া অবশ্য তাদের ওয়েবসাইটে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে
দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে সামরিক দমন-পীড়নের স্মৃতি উসকে দেওয়া একটি প্রচারণাকে ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে চাকরি হারিয়েছেন স্টারবাকস কোরিয়ার প্রধান সন জিয়ং-হিউন।
স্টারবাকসের দক্ষিণ কোরিয়ার কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শিনসেগে গ্রুপ জানিয়েছে, ‘অনুপযুক্ত মার্কেটিং কার্যক্রম’ পরিচালনার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
কী ছিল সেই বিতর্কিত প্রচারণা?
সোমবার স্টারবাকস কোরিয়া ‘ট্যাংক ডে’ নামে একটি প্রচারণা চালু করে। এতে তাদের ‘ট্যাংক’ সিরিজের টাম্বলার বা পানির বোতল প্রচার করা হচ্ছিল। প্রচারণার স্লোগান ছিল— ‘টাক!’ শব্দ করে টেবিলে রাখুন।’
কিন্তু দিনটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ডেমোক্রেটাইজেশন মুভমেন্ট ডে’, যা ১৯৮০ সালের গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে পালন করা হয়। ফলে ‘ট্যাংক’ শব্দ এবং সামরিক ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
কেন এত সংবেদনশীল বিষয়?
১৯৮০ সালে সামরিক শাসক চুন দু-হোয়ানের সরকার গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমনে সেনা ও ট্যাংক মোতায়েন করেছিল। সে সময় শত শত মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন বলে ধারণা করা হয়। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো পুরো সত্য প্রকাশ পায়নি।
অবশেষে গণতন্ত্রের দাবিতে বাড়তে থাকা আন্দোলনের মুখে ১৯৮৮ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন চুন দু-হোয়ান।
‘টাক’ শব্দ নিয়েও ক্ষোভ
সমালোচকরা বলছেন, প্রচারণায় ব্যবহৃত ‘টাক’ শব্দটিও দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। ১৯৮৭ সালে এক ছাত্র আন্দোলনকারী পুলিশের নির্যাতনে মারা যান। তখন পুলিশ দাবি করেছিল, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডেস্কে আঘাতের ‘টাক’ শব্দে তার মৃত্যু হয়েছে।
পরে জানা যায়, নির্যাতনে ছাত্রটির মৃত্যু হয়েছিল।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং’ও স্টারবাকসের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, স্টারবাকসের এই প্রচারণা গওয়াংজুর রক্তাক্ত আন্দোলন ও নিহতদের স্মৃতিকে অপমান করেছে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কাছে নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
বিতর্কের পরপরই স্টারবাকস কোরিয়া অবশ্য তাদের ওয়েবসাইটে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে এবং প্রচারণাটি প্রত্যাহার করে নেয়। এ ঘটনার পর শিনসেগের মালিকানাধীন ই-মার্টের শেয়ারের দাম কমে যায়।
এদিকে স্টারবাকসের বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আরও কঠোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু করবে তারা।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প














































