মঙ্গলবার । মে ১৯, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৯ মে ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বন্দুক হামলা, নিহত ৫


usa-mosjid-attacked

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের একটি মসজিদ ও স্কুল কমপ্লেক্সে স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) এক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই হামলাকারীসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহত বাকি তিনজনের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন।

ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে ‘হেট ক্রাইম’ বা বর্ণবাদী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর বয়স ১৭ ও ১৯ বছর। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তারা নিজেরাই নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করেছে। অন্যদিকে নিহত বাকি তিনজনই প্রাপ্তবয়স্ক। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, হামলার সময় সেন্টারের স্কুলে থাকা শিশুদের কেউ শারীরিকভাবে আহত হয়নি।

সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, “যেহেতু ঘটনাস্থল একটি ইসলামিক সেন্টার, তাই যতক্ষণ না অন্য কিছু প্রমাণিত হচ্ছে, আমরা এটিকে ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবেই বিবেচনা করে তদন্ত করছি।” তিনি আরও জানান, মসজিদের নিরাপত্তারক্ষী সাহসিকতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় হতাহতের সংখ্যা আর বাড়েনি।

এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসানি। তিনি বলেন, “এই কেন্দ্রটি সবার জন্য প্রার্থনা, শিক্ষা ও সামাজিক মিলনের জায়গা। উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমাদের ইসলামিক সেন্টার সবসময়ই একটি শান্তিপূর্ণ উপাসনাস্থল।”

ভয়াবহ এই ঘটনার পর সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন। “এই শহরে বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই” উল্লেখ করে তিনি শহরের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করার আশ্বাস দেন।

এদিকে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

এই ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি নিউইয়র্কেও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি না থাকা সত্ত্বেও পূর্বসতর্কতা হিসেবে শহরের সব মসজিদগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।