
সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জালাল উদ্দিন ওরফে বাবুল, হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ আরিফ উল্লাহ এবং আনোয়ার হাকিম।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— জিয়াবুল করিম, ইসমাইল হোসেন, নুরুল আমিন, নাছির উদ্দিন ও আব্দুল করিম।
এছাড়া মোহাম্মদ সাদেক, আনোয়ারুল ইসলাম, মোরশেদ আলম ও শাহ আলমকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আবু হানিফ, এনামুল হক ওরফে তোতলা এনাম, মো. এনাম, কামাল ওরফে ভেন্ডি কামাল এবং মিনহাজ উদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর আদালত এই রায় দেন। একই ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র মামলাতেও কয়েকজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন। তার বয়স ছিল ২৩ বছর।
ঘটনার পরদিনই দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আবদুল্লাহ আল হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র আইনেও আরেকটি মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ দুই মামলায় মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।










































