
হরমুজ প্রণালি ।। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, চুক্তি কার্যকর হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ধাপ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় করলে পরবর্তী আলোচনা শুরু হবে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গরিবাবাদি আরও জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে আজ রাত থেকেই বিভিন্ন ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। তবে অন্য পক্ষ চুক্তি লঙ্ঘন করলে তেহরানও নিজস্ব ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তেহরান তার শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করেই এই সমঝোতায় সম্মত হয়েছে। দেশটির সংবাদ সংস্থা মেহর জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীরা পরবর্তী আলোচনাতেও যুক্ত থাকবেন এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করা হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আগামী ৬০ দিন আলোচনা চলবে। তিনি বলেন, এই সমঝোতা হলেও তেহরান প্রতিপক্ষের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছে না।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক সংঘাত বন্ধে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তার দাবি, সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে।
চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সোমবারের শুরুর দিকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমে যায়।
এদিকে ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। চুক্তির খবর প্রকাশের আগে রোববার বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘খুব কঠিন মানুষ’ বলে মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতাটি বাস্তবে কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও বাকি রয়েছে।














































