
স্টারবাকস কোরিয়ার একটি শাখা ।। ছবি: রয়টার্স
বিতর্কিত একটি বিপণন প্রচারণাকে ঘিরে জনরোষের মুখে পড়ার পর কর্মীদের জন্য বিশেষ ইতিহাস ও সামাজিক সচেতনতা প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে স্টারবাকস কোরিয়া। এ উপলক্ষে আগামী ২২ জুন দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির সব শাখা বিকেল ৩টায় বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্টারবাকস কোরিয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান শিনসেগে গ্রুপ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বিতর্ককে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত মাসে স্টারবাকস কোরিয়া ‘ট্যাংক ডে’ নামে একটি টাম্বলার (পানির বোতল) প্রচারণা চালায়। কিন্তু এটি এমন এক দিনে আয়োজন করা হয়, যেদিন দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ঘটনা—১৯৮০ সালের গওয়াংজু গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী পালিত হয়।
সেই সময় সামরিক সরকার গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী ও ট্যাংক মোতায়েন করেছিল। ফলে ‘ট্যাংক ডে’ নামটি অনেকের কাছে ওই রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রতি অসম্মানজনক বলে মনে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিক্রিতেও যার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে।
শিনসেগে গ্রুপ জানিয়েছে, ১৭ জুন স্টারবাকস কোরিয়ার প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও ই-মার্ট বিভাগের নির্বাহীরা গ্রুপের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একই ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। এছাড়া গ্রুপের চেয়ারম্যান চুং ইয়ং-জিন এবং বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা ২৪ জুন পৃথক একটি প্রশিক্ষণ সেশনে যোগ দেবেন।
প্রশিক্ষণের ইতিহাসবিষয়ক অংশ পরিচালনা করবেন সিউলের সঙকিউনকোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইতিহাসবিদ। সেখানে ১৯৫০-এর দশক থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো এবং সেগুলোর সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হবে।
অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞানবিষয়ক প্রশিক্ষণে করপোরেট বিপণন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ইতিহাস, শ্রম, লিঙ্গসমতা, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয় কীভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে কর্মীদের ধারণা দেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কার্যক্রম শুরু করার পর এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী সব স্টারবাকস শাখা একসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে বিপণন কার্যক্রম অনুমোদনের নিয়মেও বড় পরিবর্তন আনা হবে। নতুন ব্যবস্থায় ইতিহাস, স্মরণীয় দিবস, রাজনীতি, দুর্যোগ, সামরিক বিষয়, লিঙ্গ, সহিংসতা ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো যাচাইয়ের জন্য বিশেষ ‘সামাজিক সংবেদনশীলতা চেকলিস্ট’ চালু করা হবে।
২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টারবাকসের ২ হাজারের বেশি শাখা ছিল। বিক্রির দিক থেকে এটি বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে বড় কফি চেইন হিসেবে পরিচিত।
রয়টার্স












































