সোমবার । জুন ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২২ জুন ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

লেবানন যুদ্ধ অবসানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানালেন আব্বাস আরাঘচি


লেবানন যুদ্ধ অবসানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা জানালেন আব্বাস আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি || ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রথম দফার বৈঠকের শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সেই সাথে আমাদের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা তেহরানের বিপুল বাজেয়াপ্ত সম্পদের একাংশও ছাড় করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের স্টান্সস্ট্যাডের কাছে লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বুর্গেনস্টক রিসোর্টে প্রথম দফার বৈঠকের শেষে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি এসব কথা বলেন।

খবর সিএনএনের।

তিনি বলেন, ‘ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’ তবে এই বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত কিছুই বলা হয়নি ওই পোস্টে। এ বিষয়ে এখনও মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।

এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হোসেইন গোরবানজাদেহ জানিয়েছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তার এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে আরও লিখেছেন, পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের দৌত্যে ‘লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।’ তিনি বলেছেন, তাদের সামনে ‘প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা’ হতে যাচ্ছে লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’।

মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে একমত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটাতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে। দেশ ‍দুটি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ‘আশাব্যঞ্জক অগ্রগতিও’ হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘মধ্যস্থতার ওপর রাজনৈতিক নজরদারি’ অটুট রাখতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি (গঠনে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে রিপোর্ট করবেন। পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা ও সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠন করা হবে।

বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রূপরেখায় একমত হয়েছে এই কমিটি। সেই লক্ষ্যে এ সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে সুইজারল্যান্ডে ‘সমস্ত’ অমীমাংসিত ইস্যুতে কারিগরি আলোচনা চলবে। বিবৃতিতে জানানো হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে যুক্ত করে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।