
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে বড় চমক দেখিয়েছে ইকুয়েডর। ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়েও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এই জয়ে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র করায় কঠিন সমীকরণে ছিল ইকুয়েডর। অন্যদিকে আগের দুই ম্যাচ জিতে আগেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ফেলেছিল জার্মানি। তাই কাগজে-কলমে ফেবারিট ছিল জার্মানরাই, তবে মাঠের লড়াইয়ে সব হিসাব বদলে দেয় ইকুয়েডর।
ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। নাথানিয়েল ব্রাউনের থ্রো-ইন থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে আলেক্সান্ডার পাভলোভিচ ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজের দারুণ সমন্বয়ের পর বল পেয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন সানে।
তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি জার্মানরা। নবম মিনিটেই ফেলিক্স এনমেচার কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে পেদ্রো ভিতে পাস দেন নিলসন আঙ্গুলোকে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ম্যাচে সমতা ফেরায়। এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল।
প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ৭৭তম মিনিটে। কর্নার থেকে আসা বলে গোলরক্ষক নয়্যার এগিয়ে এলেও সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠান গঞ্জালো প্লাতা। সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের জয়সূচক গোল হয়ে থাকে।
পুরো ম্যাচজুড়েই শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে জার্মানিকে চাপে রাখে ইকুয়েডর। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আক্ষেপও ঘুচিয়েছে ইকুয়েডর। এর আগে দুইবার মুখোমুখি হলেও কখনো জার্মানিকে হারাতে পারেনি তারা। ২০০৬ বিশ্বকাপে ৩-০ এবং ২০১৩ সালের প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে হেরেছিল ইকুয়েডর। এবার সেই জার্মানিকেই হারিয়ে দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটাল তারা।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে হারিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া ইকুয়েডর গ্রুপপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিয়ে নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিট।







































