sentbe-top

ইউটিউবের ১০ টি মজার তথ্য

youtubeঅনেকেই কম্পিউটারে এখন আর আলাদা করে গান জমা রাখেন না। পছন্দের কোনো গান শুনতে ইচ্ছা হলে সার্চ দেন ইউটিউবে। সিনেমার ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। পিসিতে জমিয়ে রেখে হার্ডডিস্কের গিগাবাইট নষ্ট করতে চান না কেউ-ই। সংবাদ, বিনোদন সবকিছুর ক্ষেত্রেই আলাদা একটা অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে ইউটিউব। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট।

তো চলুন জনপ্রিয় এই সাইটের বেশ কিছু মজার তথ্য জেনে নেওয়া যাক।

১। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে ইউটিউব। তিন প্রতিষ্ঠাতা শ্যাদ হার্লে, স্টিভেন চ্যান ও জাওয়াদ করিম। তিনজনই একসাথে কাজ করতেন অনলাইন লেনদেন প্ল্যাটফর্ম পেপ্যালে। কিন্তু ঝামেলা বাঁধে যখন পেপ্যালকে কিনে নেয় অনলাইনে নিলাম ওয়েবসাইট ইবে। তিনজনই চাকরি হারান। চাকরি যাওয়ার পর তাঁরা ভাবতে থাকেন নতুন কী করা যায়। এই সময় তাঁদের মাথায় আসে ইউটিউবের আইডিয়া। সেটা নিয়েই মাঠে নামেন তাঁরা।

২। আমাদের কাছে ভিডিও শেয়ারিং সাইট হিসেবে জনপ্রিয় ইউটিউব। তবে শুরুতে কিন্তু এমন হওয়ার কথা ছিল না। তিন উদ্যোক্তা একটি অনলাইন ভিডিও ডেটিং সাইট বানাতে চেয়েছিলেন। যেখানে একজন ব্যবহারকারী নিজের সম্পর্কে ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে পারবেন, একই সাথে এ রকম অসংখ্য ভিডিও থেকে খুঁজে নিতে পারবেন নিজের পছন্দের মানুষটিকে!

৩। ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা জাওয়ান করিম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। বাংলাদেশি বাবা ও জার্মান মায়ের সন্তান জাওয়াদের জন্ম জার্মানিতে। যুক্তরাষ্ট্রে লেখাপড়া শেষে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন সেখানে। ইউটিউবে প্রথম ভিডিওটি আপলোড করেন জাওয়াদ নিজেই। মি অ্যাট দ্য জু (Me at the Zoo) শিরোনামের এই ভিডিওতে দেখা যায় জাওয়াদের চিড়িয়াখানা ভ্রমণের খানিক অভিজ্ঞতা। মাত্র ১৯ সেকেন্ডের এই ভিডিও এখন পর্যন্ত দেখা হয়েছে প্রায় ২৩ মিলিয়ন বার। প্রথম ভিডিও বলে কথা!

৪। অ্যালেক্সা রেটিং অনুযায়ী বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভিজিট করা ওয়েবসাইটের তালিকায় ইউটিউবের অবস্থান তৃতীয়। ইউটিউবের উপরে থাকা দুটি ওয়েবসাইট যথাক্রমে ফেসবুক ও গুগল। তবে মজার ব্যাপার ইউটিউব কোনো সার্চ ইঞ্জিন না হওয়া সত্ত্বেও এখানে যতবেশি ‘সার্চ’ করা হয়ে থাকে তা বিং, আস্কডটকম ও ইয়াহুর মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলোর মিলিত সার্চের চাইতে অনেক বেশি। সার্চের পরিমাণ হিসাব করলে গুগলের পরই ইউটিউবের অবস্থান।

৫। ইউটিউবের বিশালতা বোঝান যেতে পারে একটি ছোট পরিসংখ্যান দিয়ে। প্রতি সেকেন্ডে ইউটিউবে আপলোড হচ্ছে প্রায় দেড় ঘণ্টার সমপরিমাণ ভিডিও। আর একটু বড় করে বললে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০ ঘণ্টা অথবা প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ দিনের সমপরিমাণ! বছর শেষে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৮ শতাব্দীকাল! ইউটিউবের সব ভিডিও দেখে ফেলার কোনো পরিকল্পনা নিয়ে থাকলে মাথা থেকে সে ভূত নামিয়ে ফেলাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৬। ইউটিউবের সবচেয়ে বেশিবার দেখা ভিডিওটি দক্ষিণ কোরিয়ান সংগীতশিল্পী সাইয়ের ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ গানের মিউজিক ভিডিও। ২০০ কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। এর আগে এই অবস্থান ছিল কানাডিয়ান পপ শিল্পী জাস্টিন বিবারের দখলে। ‘বেবি’ শিরোনামের তাঁর গানটি এখন পর্যন্ত দেখা হয়েছে প্রায় ১১৬ কোটি বার।

৭। আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত অবসর থাকে তবে দেখে ফেলতে পারেন ইউটিউবের সবচেয়ে বেশি ব্যাপ্তির ভিডিওটি। এক-দুই দিনে কিন্তু হবে না, গুনে গুনে ২৫ দিন লাগবে পুরো ভিডিও দেখে শেষ করতে! ৫৯৬ ঘণ্টা ৩১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি বানিয়েছেন জোনাথান হেনড্রিক নামের একজন অ্যাপস ডেভেলপার। কী আছে এই অতিশয় লম্বা ভিডিওতে? জানতে সময় করে বসে পড়ুন একদিন!

৮। ইউটিউব কিন্তু এখন আর নিছক বিনোদনের কোনো সাইট নয়। জীবিকা হিসেবে কিন্তু অনেকেই ‘ইউটিউবার’ পেশাকে বেছে নিচ্ছেন। বিচিত্র ধরনের ভিডিও নির্মাণ ও আপলোডের মাধ্যমেই আয় করা সম্ভব ইউটিউব থেকে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে সারা পৃথিবীর প্রায় ৩০টি দেশের অন্তত ১০ লাখ ‘ইউটিউবার’ আয় করছেন শুধু ইউটিউবে সক্রিয় থেকে, আর এই ১০ লখের প্রায় অর্ধেকেরই একমাত্র পেশা এটি। বলাবাহুল্য, এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

৯। প্রতিবছর এপ্রিল ফুল পালন করে ইউটিউব। ব্যবহারকারীদের বোকা বানাতে বিভিন্ন রকম আয়োজন করে তারা। ২০০৯ সালের পহেলা এপ্রিলের কথাই ধরা যাক। ইউটিউব সেদিন পুরো ওয়েবসাইটটিকেই উল্টো করে দিয়েছিল। ভিডিও দেখতে গিয়ে বেশ ঘাম ছুটে গিয়েছিল সবার!

১০। ইউটিউব প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মাথায় টেক জায়ান্ট গুগল কিনে নিয়েছিল ইউটিউবকে। আর এ জন্য গুগলকে গুনতে হয়েছিল ১৬৫ কোটি ডলার। ইউটিউবকে কিনে গুগল অবশ্যই ভুল করেনি। শুধু ২০১৩ সালেই ইউটিউব থেকে গুগল আয় করে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার।

sentbe-top