cosmetics-ad

অ্যাপল স্যামসাংয়ের দুর্দশায় শঙ্কিত স্মার্টফোন সরবরাহকারীরা

apple-vs-samsung

অ্যাপল ও স্যামসাং— স্মার্টফোন দুনিয়ার দুই আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান। চলতি বছর এ দুই টেকজায়ান্টের নড়বড়ে অবস্থান নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে স্মার্টফোন ডিভাইস খাতে। গত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো আইফোন বিক্রি কমার খতিয়ান তুলে ধরেছে অ্যাপল। অন্যদিকে গ্যালাক্সি নোট ৭ বিস্ফোরণ নিয়ে উন্মাদনায় স্যামসাং খানিকটা বিপর্যস্ত।

পরিস্থিতি আরো বিশদাকারে বিশ্লেষণে গার্টনারের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা যায়। মার্কিন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর স্মার্টফোন বিক্রি ৭ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এ হার গত বছরের অর্ধেক। প্রতিষ্ঠানগুলো স্মার্টফোন উত্পাদনেও রাশ টানবে শিগগিরই। বছরে ১৫০ কোটি ডিভাইস বিক্রি নিয়ে স্মার্টফোন খাত এরই মধ্যে বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে।

এইচএসবিসির প্রযুক্তিবিশারদ স্টিভেন পেলাইয়ো বলেন, এটি একটি সুপারসাইকেল। সব পণ্যের ক্ষেত্রেই এটি দেখা যায়। স্মার্টফোনের কাটতি কমছে। পরবর্তীতে কোন  প্রযুক্তিপণ্যটি ভোক্তাদের পছন্দের তালিকায় উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।

স্মার্টফোনের চাহিদা মন্দায় প্রভাব পড়ছে জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের কারখানাগুলোয়। যেমন— অ্যাপলকে নিজস্ব পণ্য উত্পাদনে নির্ভর করতে হয় ২০০টির বেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই এশিয়াভিত্তিক।

টোকিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জাপান ডিসপ্লে ইনকরপোরেটেডের (জেডিআই) রাজস্বের ৮৫ শতাংশ আসে স্মার্টফোন নির্মাতাদের কাছ থেকে। আর এর অর্ধেকে অবদান অ্যাপলের। জেডিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিতসুরু হোম্মা বলেন, এখনো স্মার্টফোন ব্যবসায় থাকলে আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাবে জেডিআই। সংকট সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল তিনি। তবে প্রধান শেয়ারহোল্ডার জাপান সরকারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে জেডিআইয়ের। ডিসপ্লে নির্মাতা ব্যবসায় বহুমুখিতা আনতে চাইছে। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সংশ্লিষ্ট ডিভাইস সরবরাহে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বচালিত গাড়ি ব্যবসায় সুযোগ খুঁজছেন হোম্মা। এদিকে আইওটির সঙ্গে গাড়ি ব্যবসা সম্প্রসারণ রয়েছে সনির পরিকল্পনায়। ডিভাইসের প্রয়োজনীয় অংশ ইমেজ সেন্সর। নতুন বাজারে এর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী সনির মহাব্যবস্থাপক সুতোমু হারুতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিটি গাড়িতে গড়ে দু-তিনটি ইমেজ সেন্সর থাকবে। এক্ষেত্রে অর্থনীতির মানদণ্ড তুলনা করা হবে স্মার্টফোনের সঙ্গে। কিন্তু এ বাজারগুলো নতুন ও এখন পর্যন্ত অপরীক্ষিত। স্মার্টফোনের তুলনায় বাজার বর্তমানে আকারে বেশ ছোটই। পেলাইয়োর তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে গাড়িপ্রতি সেমিকন্ডাক্টর উপাদানের দাম বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে ঠেকবে ৭০০ ডলারে। এখন এসব উপাদান বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ ডলারে। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ৮ কোটি গাড়ি সরবরাহ হয়।

প্রযুক্তিবিদ চেরি মার তথ্যানুযায়ী, স্মার্টফোনের বাজার দখলে ব্র্যান্ডগুলোর কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। তা হচ্ছে— হালনাগাদ ক্যামেরা, শব্দ ও নান্দনিকতা। ভোক্তারা মূলত এ কারণেই চীনা স্মার্টফোনে ঝুঁকছেন। চলতি বছর ভালোমানের ডুয়াল ক্যামেরাবিশিষ্ট প্রায় ২০টি স্মার্টফোন বাজারে এসেছে। এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় মাত্র একটি বেশি। চলতি বছর বৈশ্বিক হ্যান্ডসেট বিক্রি ১-২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে চীনা ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য বেড়েছে ২০ শতাংশ। সনির হারুতা বলেন, স্মার্টফোনের বাজার স্থবির হয়ে পড়লেও ডুয়াল ক্যামেরা ফোনের চাহিদা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ফোনেই আছে আরো বেশি ইমেজ সেন্সর। তিনি বলেন, অনেকেই স্মার্টফোন ব্যবসা থেকে সরে আসার কথা ভাবছে। কিন্তু শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে ক্যামেরায়।

স্বচালিত গাড়ি ও স্বয়ংক্রিয় ওয়াশিং মেশিন— প্রযুক্তিবিশ্বে স্থান অটুট রাখতে সহায়তা করবে। তা সত্ত্বেও একটি শূন্যতা থেকেই যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে স্মার্টফোনের বাজার নিয়ে আশাবাদী পেলাইয়ো। তার ভাষায়, সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্য দিয়ে পরিচালিত হবে সরবরাহ শৃঙ্খল প্রবৃদ্ধি, এতে সন্দেহ নেই। তবে পৃথক কোনো খাতের পক্ষে শিগগিরই স্মার্টফোনের বাজার ধরার সম্ভাবনা নেই।