cosmetics-ad

দক্ষিণ কোরিয়ায় তরুণ বেকারত্বের হার ১৩ বছরে সর্বোচ্চ

unemployment-2

চলতি বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ বেকারত্বের হার বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক মন্দার পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ ও অন্যান্য সংকটাপন্ন শিল্প পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্থান ঘাটতি পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। ফলে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে। খবর ব্লুমবার্গ ও পালস নিউজ।

গতকাল প্রকাশিত স্ট্যাটিস্টিকস কোরিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের জন্য নভেম্বরে অসমন্বিত বেকারত্বের হার বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; যা অক্টোবরের ৮ শতাংশ এবং এক বছর আগের ৭ দশমিক ৪ শতাংশের চেয়ে বেশি। ১৯৯৯ সালের পর থেকে প্রাপ্ত উপাত্তের মধ্যে এ হার সর্বোচ্চ। এদিকে অক্টোবরে মৌসুমভিত্তিক সমন্বয়ের পর বেকারত্বের হার কমে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগে ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অক্টোবরে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান কমলেও কৃষি ও মত্স্য খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সে ঘাটতি পূরণ করেছে।

নভেম্বরে কাজ রয়েছে এমন লোকের সংখ্যা বছরওয়ারি ৩ লাখ ৩৯ হাজার বেড়ে ২ কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে বছরওয়ারি তিন লাখের বেশি কর্ম সংযুক্ত হয়েছে। এর আগের মাসে যুক্ত হয় ২ লাখ ৭৮ হাজার। গত বছর নভেম্বরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে কৃষি ও মত্স্য শিল্প খাতের কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।

এদিকে গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার ঘুরে দাঁড়ানো নির্মাণ শিল্প খাতে ১ লাখ ১১ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও সম্পর্কিত অন্যান্য খাতের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য চলতি বছরের নভেম্বরে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কর্মসংস্থান কমে গেছে। জুলাইয়ের পর থেকে এ নিয়ে টানা পঞ্চম মাস খাতটিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সংকুচিত হলো। এর আগে টানা ৪৯ মাস খাতটিতে কর্মসংস্থান  বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন হের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার কেলেঙ্কারির পর তার পদত্যাগের দাবিতে অনেকেই রাস্তায় আন্দোলন করছে। গত মাসে যুবকদের মধ্যে পাক কুন হের জনপ্রিয়তার রেটিং শূন্যে পৌঁছে। এর সঙ্গে ভালো কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্য তরুণদের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতি পরিকল্পনাবিষয়ক বিভাগের পরিচালক কিম ই-হান বলেন, এ মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে এবং যথেষ্ট সংখ্যক ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। পাশাপাশি শীত কর্মসংস্থান সন্ধানীদের জন্য শীতল মৌসুম। বড় কনগ্লোমারেটগুলো সাধারণত গ্রীষ্ম বা বসন্তে বেশি কর্মী নিয়োগ করে থাকে।