sentbe-top

ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মনির

monir
মনির হোসেন (ডান থেকে দ্বিতীয়)

সুদে ধার দেনা করে টুরিস্ট ভিসায় দেড় বছর আগে কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়ায় যান মনির হোসেন। স্ত্রী, ২ ছেলে ১ মেয়ে ও পিতা মাতা রেখে তাদের মুখে দু-মুঠো অন্ন এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে আশায় বুক বেঁধে যখন প্লেনে চেপে মালয়েশিয়ায় নেমেছিলেন তখনো মনির বুঝতে পারেননি বিদেশ কত যন্ত্রণার।

ঋণের বোঝা শেষ না হতেই বিধি বাম মনিরের ভাগ্যের চাকার। কর্মরত অবস্থায় মই থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল তার দু-হাত। মুন্সিগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানার আওশাহি গ্রামের মনির হোসেন এক মাসের টুরিস্ট ভিসা শেষ হবার পর বৈধ কোনো কাগজ পত্র না থাকায় সুচিকিৎসা নিতে ভর্তি হতে পারেনি সরকারি হাসপাতালেও। মেলেনি চিকিৎসা বাবদ ইনস্যুরেন্সের টাকা। সামান্য বেতনের টাকায় করতে পারেনি অপারেশন, একহাজার মেলা ভার ১৫ হাজার কোথায় পাবে মনির? চাইনিজ মালিক বহন করেনি মনিরের চিকিৎসার ব্যয়। মনিরের কোন বৈধ কাগজ না থাকায় দাবি করতে পারেনি চিকিৎসার খরচ। দীর্ঘ দেড়মাস পর নিজ সিদ্ধান্তে ও বন্ধুদের পরামর্শে ঠিক করল বাড়ি ফেরার।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম (রতন), বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী রিপন শেখ ,আনোয়ার হোসেন এবং আফসার শেখ ছাড়াও কম্উনিটি নেতাদের সহযোগিতায় ১৮মে ইউ এস বাংলার একটি ফ্লাইটে মনির হোসেন চলে গেলেন দেশে।

মনির হোসেনের এ ঘটনায় প্রবাসীরা বলছেন, প্রবাসে ভাগ্য মনিরের সাথে বিড়ম্বনা করলেও করবে না তার প্রিয় জনরা। দুর্দশাগ্রস্থ রেমিটেন্স সৈনিকদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে আমাদের সরকার। সরকারের সহযোগীতায় মনির ফিরে পেতে পারে তার স্বাভাবিক জীবন। সুস্থ্ হাতে কঠোর পরিশ্রম করে ফরিয়ে আনতে পারে সংসারে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি বয়ে আনবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল করবে দেশ ও জাতীর সম্মান।

sentbe-top