cosmetics-ad

ক্রিকেটাররা হোটেল ব্যবসাতে যান কেন?

Sakibs-All-Rounder-Dining

দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। এই অঞ্চলে মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বেশ আলোচনা হয়। খেলার মাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া তারকাদের অবসর জীবন নিয়েও এখানে আগ্রহের শেষ নেই।

শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তী স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরণ কিংবা বাংলাদেশের কিংবদন্তী স্পিনার মোহাম্মদ রফিক কীভাবে তাদের অবসর কাটাচ্ছেন- তা নিয়ে আলোচনায় মেতে থাকেন দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ। শচীন ও শেওয়াগের পারিবারিক ব্যবসা; অর্জুনা রানাতুঙ্গা ও ইমরান খানের রাজনৈতিক জীবন; আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কোচিং ক্যারিয়ার- কোনো কিছুই আলোচনা থেকে বাদ পড়ে না।

তেমনই বাংলাদেশে এক নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মিরপুরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালু করেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিব’স অলরাউন্ডার ডাইনিং নামের ওই রেস্টুরেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি ছবি নিজের অফিসিয়াল পেইজে পোস্ট করেছেন তরুণ ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ। সেখানে তার এক ভক্ত ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করেছেন, এত ব্যবসা থাকতে আপনারা সবাই হোটেল ব্যবসাতে যান কেন?

এর আগে গুলশানে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তাই সেই ব্যবসাও বেশ জমজমাট। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দেওয়া সাজার কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে থাকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলেরও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা আছে। সম্প্রতি ইমরুল কায়েসও একই ব্যবসায় জড়িয়েছেন বলে জানা গেছে।

দেশের অন্য কোনো খেলোয়াড় রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কি না- তা জানা যায়নি। তবে দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কেউ অবসরে যাওয়ার পর রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। আবার কেউ কেউ সাকিবের মতো ক্যারিয়ারের চাঙ্গা ভাব থাকতেই ব্যবসায় জড়িয়েছেন।

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় জড়িত বিভিন্ন দেশের তারকা খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন ভারতের ব্যাটিং লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকার; আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শেওয়াগ; সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী; সাবেক ফাস্ট বোলার জহির খান; সাবেক অধিনায়ক অজয় জাদেজা; সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব; অলরাউন্ডার জাদেজা; ফাস্ট বোলার রবিন উথাপ্পা ও শ্রীশান্ত; শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা প্রমুখ। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারদাঙ্গা ওপেনার ক্রিস গেইলও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

ঢাকার ওয়াড়িতে চায়নিস রেস্টুরেন্ট রয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলের। তার রেস্টুরেন্টের নাম সিচুয়ান গার্ডেন। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই ব্যবসা শুরু করেন।

ভারতের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবার আগে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেছিলেন সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব। ১৯৮০ সালে চন্ডিগড়ে হোটেল কপিল নামে রেস্টুরেন্ট চালু করেন তিনি। বর্তমানে সেই হোটেলটি ক্যাপ্টেইন’স রিট্রিট নামে পরিচিত।

২০০২ সালে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন শচীন। ভারতের খ্যাতিমান হোটেল ব্যবসায়ী সঞ্জয় নারাঙ্গের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে মুম্বাইয়ে এই ব্যবসা শুরু করেন লিটল মাস্টার। তার রেস্টুরেন্টের নাম, টেন্ডুলকার’স। একই সময়ে দিল্লিতে সেনসো নামে একটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক অজয় জাদেজা। তবে বেশিদিন ওই ব্যবসার সঙ্গে ছিলেন না তিনি।

২০০৪ সালে সৌরভ’স নামে রেস্টুরেন্ট চালু করেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। তবে ২০১১ সালে সেই ব্যবসা বন্ধ করে দেন তিনি। রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় নাম লিখিয়েছিলেন ভারতের মারদাঙ্গা ওপেনার ভিরেন্দর শেওয়াগও। মুম্বাইয়ে শেওয়াগ ফেবারিটস নামে রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলেন তিনি। তবে এই ব্যবসার সঙ্গে বেশিদিন জড়িত ছিলেন না শেওয়াগ।

২০০৪ সালে পুনেতে জেডকে’জেড (জহির খান’জ) নামে রেস্টুরেন্ট দিয়েছিলেন ফাস্ট বোলার জহির খান। রাজকোটে ২০১২ সালে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন জাদেজা। তার রেস্টুরেন্টের নাম জাদ্দু’স ফুড ফিল্ড।

ক্রিকেট মাঠের বন্ধুত্বকে ব্যক্তিগত জীবনে টেনে নিলেন জয়াবর্ধনে এবং সাঙ্গাকারা। দুই বন্ধু মিলে নিজ দেশে শুরু করেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। তাদের সঙ্গে আছেন শ্রীলঙ্কার খ্যাতিমান শেপ দর্শন মুনিস। অন্যদিকে জ্যামাইকাতে ত্রিপল সেঞ্চুরি স্পোর্টস বার ৩৩৩ নামে একটি রেস্টুরেন্ট চালান দেশটির মারদাঙ্গা ওপেনার গ্রিস গেইল। অর্থসূচক