cosmetics-ad

ওকিনাওয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রকে অস্ত্র নেয়ার অনুমতি দিয়েছে জাপান

US-Navy-ships-okinawa

পূর্ব চীন সাগরের ওকিনাওয়া দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক অস্ত্র নেয়ার অনুমতি দিয়েছে জাপান। ১৯৬৯ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী ওকিনাওয়ায় অস্ত্র জমা করতে ওয়াশিংটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত কিছু নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নথিতে ১৯৬৯ সালের ১৭ নভেম্বরের এক সমঝোতা স্মারকে দেখা যাচ্ছে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিরোতো তানাকা সেই সময় হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারকে বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে ওকিনাওয়ায় অস্ত্র আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানিদের কোনো মতবিরোধ নেই।’

জাপান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ওকিনাওয়ার বিনিময়ে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি হয়েছে বলে দীর্ঘ গুঞ্জন রয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত মার্কিন নথিতে প্রমাণিত হয়েছে, টোকিও একটি কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে তার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে।

নথিতে দেখা যায়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী এইসুকে স্যাতো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ওকিনাওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র জমা করার বিষয়ে গোপন চুক্তিতে পৌঁছানোর কয়েকদিন পর তানাকা এবং কিসিঞ্জারের মধ্যে আলোচনা হয়।

okinawaওকিনাওয়া জাপানের কাছে ফিরে দেয়ার মাত্র দু’দিন আগে ওই চুক্তি হয়। জাপান টাইমসের তথ্য বলছে, জাপানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিচি অ্যাইচি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় গোপন চুক্তির ব্যাপারে কিছুই জানতো না।

এমনকি ওকিনাওয়া দ্বীপ প্রত্যার্পণের বিষয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কায় ছিলেন কিচিসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা। পরে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণে টোকিও যে ইচ্ছুক সেবিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে মন্ত্রণালয়।

তানাকা বলেছিলেন, ‘জাপানিদের জন্য পারমাণবিক এই ইস্যু ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে স্যাতোর সফরের সফলতা অথবা ব্যর্থতার ওপর।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, তানাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাকে বুঝানো হয়েছিল যে, পারমাণবিক ইস্যু অথবা অন্য কোনো বস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানিদের কোনো মতপার্থক্য নেই।

মার্কিন এসব নথি ক্যালিফোর্নিয়ার রিচার্ড নিক্সন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত গোপন চুক্তির এসব নথি জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজের হাতে এসেছে।