sentbe-top

সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে মোবাইল অপারেটরদের ভয়াবহ প্রতারণা

4gমোবাইলে ফোর-জি চালু হবে। দ্রুত গতিতে নেট চলবে। এমন প্রত্যাশা নিয়ে নিজের সিমটি ফোর-জিতে রিপ্লেসমেন্ট করতে রাজধানীর ফার্মগেটের গ্রামীণফোন সেন্টারে এসেছিলেন তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী শারমিন ইসলাম সৃষ্টি। কিন্তু এসেই বিপত্তিতে পড়েছেন তিনি। কারণ প্রতিটি সিম রিপ্লেস করতে গ্রামীণফোন তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে নিচ্ছে ১১০ টাকা করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিম রিপ্লেস না করে গ্রামীণফোন সেন্টার থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এসময় এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় শারমিন ইসলাম সৃষ্টির।

শারমিন ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি সামান্য কিছু দিন আগে এই গ্রামীণ সিমটি কিনেছি ১৫০ টাকা দিয়ে। এখন আবার সিমটি রিপ্লেস করতে কেন ১১০ টাকা দিতে হবে? তারা তো ইচ্ছা করলেই সিমটি অটোমেটিক রিপ্লেস করে দিতে পারে। একে তো আসা যাওয়ার হয়রানি, তারপর আবার টাকা। এটা তো সকল গ্রাহকের সাথে চরম প্রতারণা। যে যেভাবে পারছে সে সেভাবে আমাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। দেশে কোনো বিচার নেই!

শুধু শারমিন ইসলামই নয় রাজধানীর বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সিম রিপ্লেস না করেই চলে গেছেন।

গ্রামীণফোন সেন্টারে ঘুরে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামীণফোন প্রতিটি গ্রাহকের কাছে থেকে সিম ফোর-জিতে রিপ্লেসের নামে ১১০ টাকা নিচ্ছে। তবে, তাদের স্টার কাস্টমারদের জন্য এই সেবা ফ্রি।

এদিকে, বাংলালিংক ও রবির কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলালিংক ও রবি ফোর-জি সিম রিপ্লেসের নামে প্রতি গ্রাহকের কাছে থেকে নিচ্ছে ১০০ টাকা করে। কেন এতো টাকা নেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাস্টমার কেয়ারের দায়িত্বরতরা কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

এদিকে, ফোর-জি সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, আজ আমি অভিযোগ পেয়েছি সামান্য সিম রিপ্লেসের নামে ১১০ টাকা চার্জ করছেন। এটা তো ঠিক না। আমি আমাদের দায়িত্বরতদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছে এটি নেয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, গ্রাহক তো একবার টাকা দিয়ে সিম কিনেছে। আবার থ্রি-জি থেকে ফোর-জিতে যেতে টাকা দিতে হবে কেন? ফোর-জির শুরুতেই এটা ভয়াবহ একটা প্রতারণা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামীণফোনের বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি। রবির গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ২০ লাখ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ২০ লাখ এবং টেলিটকের ৪৪ লাখ। প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে যদি এভাবে গড়ে ১০০ করে টাকা নেয়া হয় তাহলে কয়েক হাজার কোটি টাকা কোনো কারণ ছাড়া হাতিয়ে নিতে পারবে অপারেটরগুলো। কিন্তু আমাদের দেশে এটা দেখার কেউ নেই। যার যেমন ইচ্ছা সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে কর্তৃপক্ষকে দেখিয়ে দিলেও কোনো এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলে প্রতারকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয় না।

সৌজন্যে- পরিবর্তন ডটকম

sentbe-top