সাকিবের বিকল্প অলরাউন্ডার আফিফ!

Afif cricketerআফিফ হোসেন ধ্রুব— দুর্দান্ত এক অলরাউন্ডার। বাঁ হাতি মারকুটে ব্যাটসম্যান, ডান হাতি অফ-স্পিন বোলার। সবশেষ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের সহঅধিনায়ক ছিলেন। জাতীয় দলেও অভিষেক হয়েছে তার। কেবল একটি টি-২০ ম্যাচই খেলেছেন। ব্যাট হাতে রানের খাতাই খুলতে পারেননি, বল হাতে ২ ওভারে ২৬ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ অলরাউন্ডারকেই ‘বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার’ সাকিব আল হাসানের উত্তরসূরি হিসেবে মনে করেন হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের সিনিয়র কোচ এবং প্রাইম দোলেশ্বরের প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। জাতীয় দলের পাইপলাইনে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়েই কাজ করেন তিনি। মোহামেডান, ওল্ড ডিওএইচএস, শেখ জামালের মতো জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বাবুল। দোলেশ্বরে আছেন টানা পাঁচ বছর ধরে। শুধু তাই নয়, শেষ দুই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেই কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় দলের ‘খণ্ডকালীন’ ফিল্ডিং কোচ হিসেবে ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফর করেছেন।

২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হিসেবে ‘কোচিং ক্যারিয়ার’ শুরু করেছিলেন বাবুল। তার হাতে তৈরি অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তরুণ ক্রিকেটারদের খুব কাছ থেকে দেখছেন তিনি। নিজের কোচিং অভিজ্ঞতা থেকে জানালেন, ‘আফিফকে সাকিবের ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে ভাবতেই পারি। যদিও সাকিব বাঁ হাতি স্পিনার, আফিফ ডান হাতি। তবে অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিবের অভাব পূরণ করার জন্য ক্রিকেটার হিসেবে আমি আফিফকেই দেখছি।’

বাংলাদেশের সেলিব্রেটি টি-২০ লিগ বিপিএলে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ২০১৬ সালে রাজশাহী কিংসের হয়ে মাঠে নামেন আফিফ। প্রথম ম্যাচেই চিটাগাং ভাইকিংসের বিরুদ্ধে মাত্র ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হৈচৈ ফেলে দেন। তার শিকার করা উইকেটের মধ্যে ছিলেন টি-২০ সম্রাট ক্রিস গেইলও।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১৭ সালে। এ পর্যন্ত আট ম্যাচে চার সেঞ্চুরি করেছেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। গড় ৪৪.৮৩। বল হাতে শিকার করেছেন ৭ উইকেট। সবশেষ ম্যাচে পূর্বাঞ্চলের হয়ে খেলেছেন ১৪২ রানের অসাধারণ ইনিংস। সে কারণেই এই তরুণকে সাকিবের ‘রিপ্লেসমেন্ট’ হিসেবে ভাবা হচ্ছে। মাশরাফি বিন মর্তুজার ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে এখন পর্যন্ত কাউকেই দেখছেন না মিজানুর রহমান বাবুল। তবে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে বেশ কজন তরুণ ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি, ‘মাশরাফির জায়গায় খেলতে পারে এমন কোনো ক্রিকেটারকে এখন পর্যন্ত দেখছি না। এ ছাড়া সিনিয়র সব ক্রিকেটারের বিকল্প ক্রিকেটারই আছে আমাদের পাইপলাইনে।’

ওপেনিংয়ে তামিমের তো সঙ্গীই নেই! সেখানে তার জায়গা কে নেবে ভবিষ্যতে? বাবুলের দাবি, ‘এবারের প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্স অব রূপগঞ্জের হয়ে ব্যাটিং করেছে নাঈম নামে এক তরুণ ক্রিকেটার। তার ব্যাটিং স্টাইল আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমার বিশ্বাস, তার যথাযথ পরিচর্যা করতে পারলে তামিমের জায়গায় সে মানিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া সৌম্য সরকার, লিটন দাস, এনামুল হক বিজয় তো আছেই। তবে তাদের আগে ধারাবাহিক হতে হবে।’

মুশফিকের জায়গায় কাকে ভাবছেন? তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় মানিয়ে যেতে পারে জাকির হোসেন। এ ছাড়া গাজী গ্রুপের হয়ে খেলা অনীক ইসলামও হতে পারে ভবিষ্যতের মুশফিক।’ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের বিকল্প হিসেবে তার ভাবনা, ‘নাজমুল ইসলাম শান্ত এই জায়গার জন্য খুবই পারফেক্ট। তবে আবাহনীর খেলা সাইফ হাসানকে নিয়েও চিন্তা করা যেতে পারে। এ ছাড়া আরও বেশকিছু ক্রিকেটার রয়েছে।’

সত্যিকারার্থে বাংলাদেশ দলের ‘পঞ্চপাণ্ডব’— পাঁচ ক্রিকেটারের কোনো উপযুক্ত ‘ব্যাকআপ’ই দেখছেন না মিজানুর রহমান বাবুল! তিনি বলেন, ‘পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটারের উপযুক্ত ব্যাকআপ নেই। কেননা তারা অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। তাই তাদের ব্যাকআপ পেতে হলে তরুণদের অভিজ্ঞ করে জাতীয় দলে নিতে হবে। আমাদের তরুণ ক্রিকেটাররা অনেক মেধাবী। তবে তাদের অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে সরাসরি জাতীয় দলে রিক্রুট না করে “এ” দলে খেলিয়ে অভিজ্ঞ করতে হবে। তখন পাইপলাইন অনেক শক্ত হবে।