sentbe-top

জাতীয় কবির জন্মদিন আজ

 

আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্মদিন। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে আজ পরম শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় যৌবনমুখর এ কবির জন্মদিন পালন করা হবে । আজকের এই দিনে বাংলা টেলিগ্রাফ পরিবার গভীর শ্রদ্ধার সাথে বিদ্রোহী কবি স্মরণ করছে।

১৩০৬ (২৫ মে ১৮৯৯)-এর ১১ জ্যৈষ্ঠ চুরুলিয়া গ্রামের আসানসোল-বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। চুরুলিয়ার জনৈক সূফী সাধকের মাজারের খাদেম ও উক্ত মাজারের নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদের ইমাম কাজী ফকির আহমদ তাঁর পিতা। ফকির আহমদের মৃত্যুর (১৩১৪) পর কাজী পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পতিত হয়। দশ বছর বয়সে গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাইমারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (১৩১৬) হন। সংসারের চাপে ঐ মক্তবেই তিনি একবছর শিক্ষকতা করেন। বার বছর বয়সে লেটোর দলে যোগদান এবং দলের জন্য পালাগান রচনা করেন। একজন দূরন্ত স্বভাবের বালক হিসেবে তিনি গ্রামবাসীর কাছে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর জ্বালাতন থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর ব্যক্তি কর্তৃক তাঁকে রাণীগঞ্জের কাছে শিয়ারশোল রাজ স্কুলে ভর্তি করা হয়। স্কুলের বাঁধা ধরা জীবনের প্রতি তিনি অনাগ্রহ প্রদর্শন করেন। সপ্তম শ্রেণীতে ওঠার কিছুদিন পর ১৩/১৪ বছর বয়সে স্কুল ত্যাগ করেন ও বাড়ি থেকে পলায়ন করেন।

 কাজী নজরুল ছিলেন সেই মুষ্টিমেয় কবিদের একজন, যিনি রবীন্দ্র প্রভাবের বাইরে বাংলা কবিতায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। তখন ভারতসহ পৃথিবীর নানা দেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন চালু ছিল। তিনি প্রকৃতপক্ষে গোটা ঔপনিবেশিক ব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এদিক দিয়ে নজরুল একক এবং অনন্য। বিশ্বসাহিত্যে তাঁর মতো কবি বাসত্মবিকই খুব কম। তবু কেউ কেউ কাজী নজরুলের সঙ্গে রুশ কবি মায়কোভস্কি ও তুরস্কের কবি নাজিম হিকমতের কাব্যের মিল খুঁজে পান। সবকিছু মিলিয়ে নজরুল এক বিচিত্র ও বহুমুখী প্রতিভা। নজরম্নল একদিকে ছিলেন বিদ্রোহী, অন্যদিকে মানবতাবাদী। তাঁর গানগুলো জাতিকে জাগরণের পথে প্রেরণা জুগিয়েছে। ইসলামী গানের পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু শ্যামাসঙ্গীত রচনা করেছিলেন। কিন্তু কোথাও উদার মানবতাবাদকে বিসর্জন দেননি। তিনি সারাজীবনই মানবতার সাধনা করেছেন। কাজী নজরম্নলের কবিতা, গান ও গদ্য উপমহাদেশে মানুষকে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছে। সাংবাদিক হিসেবে নজরুল অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। (ডেস্ক রিপোর্ট)

sentbe-top