sentbe-top

বাংলাদেশ থেকে একের পর এক বিদায় নিচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইন্স

etihad-airwayএবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ারলাইন্স ইতিহাদ এয়ারওয়েজও বিদায় নিচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ইতোমধ্যে যারা বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ইতিহাদের টিকিট কিনেছেন তাদের কোড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে অন্য কোনো এয়ারলাইন্সে বহন করা হবে। নিজস্ব বিমানে ফ্লাইট পরিচালনা না করার এই সিদ্ধান্ত নিলেও রুট ভাড়া দেয়ার ব্যবসায় মনোযোগী হবে ইতিহাদ।

বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়ার এই তালিকায় এর আগে নাম লিখিয়েছিল দুবাইভিত্তিক ফ্লাই দুবাই, ওমান এয়ার, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, কোয়িয়ান এয়ার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরএকে এয়ারওয়েজ, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, সিঙ্গাপুরের টাইগার এয়ারওয়েজ, ব্যাংকক এয়ারওয়েজ, মিহিন লঙ্কা, গালফ এয়ারওয়েজ, হল্যান্ডের কেএলএমসহ কমপক্ষে ২০টি এয়ারলাইন্স।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা প্রতিবন্ধকতা, ফ্লাইট পরিচালনা ও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ না থাকার কারণেই একের পর এক বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে অপারেশন বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ঢাকার রুট বন্ধ হয়ে যাওয়াও বাংলাদেশের জন্য একটি ব্যর্থতা।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় সুবিধা না পাওয়ায় নামি-দামি এয়ারলাইন্সগুলো একের পর এক বিদায় নিচ্ছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন আর জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) নিয়োগ দিতে চায় না। এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি তাদের আস্থা নেই। অথচ জিএসএ নিয়োগ আমাদের এখানে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিকিটের ওপর চড়া ট্যাক্সের কারণেও বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশের ওপর বিরক্ত।

ফ্লাইট বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশের ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ম্যানেজার শামিমুল ইসলাম সোমবার বলেন, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ বাংলাদেশে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ফ্লাইট পরিচালনা করে। কিন্তু আগামী ১ অক্টোবর থেকে ঢাকা রুটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে। গত ৬ জুন থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের সেবা কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পার্টনার এবং ট্রাভেল এজেন্টদের চিঠি দিয়ে তা অবগত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহজুড়ে ব্যবসায়িক পার্টনার ও ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন-হিসাব শেষ করা হবে।

তিনি জানান, বন্ধের পর প্রাথমিকভাবে ইতিহাদ তার পার্টনার এয়ারলাইন্স জেট এয়ারওয়েজের সঙ্গে কোড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। ধীরে ধীরে রুট ও পার্টনার এয়ারলাইন্সের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

ট্রাভেল এজেন্টদের দেয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু আগামী ১ অক্টোবর থেকে ইতিহাদ ঢাকা থেকে নিজস্ব বিমানে ফ্লাইট পরিচালনা করবে না। তাই যারা আগে থেকেই ১ অক্টোবরের পরের ফ্লাইটের টিকিট কিটেছেন তারা জেট এয়ারওয়েজের মাধ্যমে মুম্বাই, দিল্লি বা কলকাতা হয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারবেন। এ ছাড়া চলতি বছরের ৬ জুনের আগে যেসব যাত্রী ১ অক্টোবরের পরের ফ্লাইটে বুকিং করেছেন তাদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে গন্তব্যে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, ৭ বছর বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনা করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ারলাইন্স ফ্লাই দুবাই চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। ২৫ মার্চ থেকে ঢাকা-দুবাই রুটের ফ্লাইট বন্ধ করে এয়ারলাইন্সটি। আর ১৪ জুন চট্টগ্রাম-দুবাই রুটে সর্বশেষ ফ্লাইট চালায় ফ্লাই দুবাই।

সৌজন্যে- জাগো নিউজ

sentbe-top