মঙ্গলবার । মার্চ ১৭, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৭ মার্চ ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানের কেশম দ্বীপ: ভূগর্ভে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, উপরে প্রাকৃতিক বিস্ময়


Queshm

দ্বীপটি পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখ নিয়ন্ত্রণ করে

ইরানের দক্ষিণে হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ক্রমেই বৈশ্বিক মনোযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যেখানে ভূগর্ভে লুকানো ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং কৌশলগত অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একসময় পর্যটন ও মুক্তবাণিজ্যের জন্য পরিচিত এই দ্বীপ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

প্রায় ১,৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দ্বীপটির নিচে বিস্তৃত টানেল নেটওয়ার্কে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ক্ষেপণাস্ত্র ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করেছে, যেগুলোকে “ভূগর্ভস্থ মিসাইল সিটি” বলা হয়। এসব স্থাপনার লক্ষ্য প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া।

সম্প্রতি ইরানের হুমকির পর প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দ্বীপটির বেসামরিক জীবনেও। ৭ মার্চ দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিমান হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে আশপাশের বহু গ্রামে পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইরান এ ঘটনাকে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার মানুষের বসবাস এই দ্বীপে, যেখানে ঐতিহ্যগতভাবে জীবনযাত্রা সমুদ্রকেন্দ্রিক। তবে চলমান সামরিক উত্তেজনা সেই স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে।

ঐতিহাসিকভাবেও কেশম দ্বীপ বিভিন্ন সাম্রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রাচীন গ্রিক যুগ থেকে শুরু করে অটোমান, পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশদের দখল ও প্রভাবের সাক্ষী এই দ্বীপটি।

সামরিক গুরুত্বের পাশাপাশি দ্বীপটি এখনো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত কেশম জিও পার্ক, যা মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম জিওপার্ক।

বর্তমানে এই দ্বীপটি ২১ শতকের জ্বালানি ও সামরিক ভূরাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ভূগর্ভে লুকিয়ে থাকা সামরিক অবকাঠামো বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।