sentbe-top

বিটিআরসির প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তে মোবাইল খরচ বাড়ল গ্রাহকের

mobile-operatorsঅফনেট (এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটর) ও অননেট (অপারেটর টু অপারেটর) সুবিধা বাতিল করে দেশে মোবাইল ফোনে কথা বলার নতুন কলরেট নির্ধারণ করে দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। নতুন এই কলরেট এরইমধ্যে চালু করেছে দেশের সকল মোবাইল ফোন অপারেটরা।

আর তারা যে হার নির্ধারণ করেছে তাতে ফোনে কথা বলার খরচ বেড়ে যাবে। এর আগে সর্বনিম্ন কলরেট ২৫ পয়সা থাকলেও নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ৪৫ পয়সার কম রেট রাখতে পারবে না কোনো অপারেটর। নতুন রেটে মোবাইল অপারেটররা মিনিটপ্রতি বিল সর্বোচ্চ দুই টাকা পর্যন্ত রাখতে পারবে। বিটিআরসির আগের নির্ধারণ করে দেওয়া কলরেট ছিল সর্বনিম্ন অননেট চার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা ও অফনেট ৬০ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ ছিল প্রতি মিনিটে দুই টাকা।

এই পদ্ধতি চালুর ফলে গ্রাহকদের কথা বলার খরচ বেড়ে যাবে। কারণ, এখন একই অপারেটরে কথা বললে যে অননেট সুবিধায় ২৫ বা ৩০ পয়সায় কথা বলা যেত, সেটি আর থাকবে না।

মোবাইল ফোন যারা ব্যবহার করেন তাদের একটি বড় অংশই একাধিক সিম ব্যবহার করেন। এর অন্যতম কারণ ছিল অননেট সুবিধা নেয়া। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিটিআরটির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। আর যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির কেউ কথা বলতেও রাজি হননি।

তবে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রবি এবং বাংলালিংকের প্রস্তাব ছিল এটি। কিন্তু সবচেয়ে বড় অপারেটর গ্রামীণ ফোনের কোনো আগ্রহ ছিল না এতে।

sentbe-adবর্তমানে গ্রামীণ ফোনের গ্রাহক সংখ্যা সাত কোটির বেশি। আর এয়ারটেল ও রবি একীভূত হওয়ার পরও তাদের গ্রাহক সংখ্যা চার কোটির মতো, আর বাংলা লিংকের তিন কোটির মতো।

গ্রাহক বেশি হওয়ায় গ্রামীণ ফোনে অননেট কল বেশি হতো। আর এই সুবিধার জন্য তাদের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশি। কিন্তু রবি ও বাংলা লিংক গ্রাহক সংখ্যা কম থাকায় অননেট সুবিধার কারণে গ্রাহক বৃদ্ধির হারও কম। আর তাদের পরামর্শ আর প্রস্তাবই মেনে নিয়েছে বিটিআরসি।

একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘যারা উচ্চবিত্ত শ্রেণির তাদের ওপর চাপ না পড়লেও এতে গরিব মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। তারা একই অপারেটরে যত টাকায় কথা বলতেন, সেখানে এখন দ্বিগুণ ব্যয় করতে হবে।

এ ব্যাপারে নাজলী নামে গ্রামীণফোনের এক গ্রাহক বলেন, ‘আগে তো অফ পিকআওয়ারে কম কলরেট কাটতো। পাশাপাশি এফএনএফ-এ কম কলরেট ছিল। এছাড়াও গ্রামীণফোন থেকে গ্রামীণফোনে কল করলে এক রেট ছিল। এসব না থাকলে তো লস হবে ধরে নেয়া যায়।’

বাংলালিংকের একজন গ্রাহক বলেন, ‘আমি শুধু বাংলালিংক সিম ব্যবহার করি আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে কথা বলার জন্য। কারণ, আমার বন্ধু, বান্ধব ও আত্মীয়-সজনদের অনেকেই বাংলালিংকের গ্রাহক। এখন যদি নতুন কলরেটে এই সুবিধা না থাকে তবে তো অসুবিধাই হলো।’

সৌজন্যেঃ ঢাকা টাইমস

sentbe-top