‘উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করুন’

china-muslimচীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলের মুসলমানদের গণহারে গ্রেফতার ও নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। ইউরোপীয় সংসদ সদস্যরা উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান বন্ধ করার জন্যও বেইজিং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

স্ট্রাসবার্গে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশন থেকে অবিলম্বে ইউঘুর মুসলমানদের গণহারে গ্রেফতার বন্ধ করার জন্য চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেইসঙ্গে সব বন্দিশিবির বন্ধ করে দিয়ে আটক ব্যক্তিদের যতদ্রুত সম্ভব নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা চীনের এসব বন্দিশিবিরের দুর্বিসহ জীবন, নির্যাতন এবং বন্দিদের মৃত্যুর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা চীন সরকারকে ইউরোপের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেয়ার জন্য ইইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনির প্রতি আহ্বান জানান।

সম্প্রতি জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে, শিনজিয়াং অঞ্চলে কথিত উগ্রপন্থা দমনের অজুহাতে অন্তত ১০ লাখ সংখ্যালঘু মুসলমানকে সেখানকার কয়েকটি বন্দিশিবির আটক রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা- হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গতমাসে এক প্রতিবেদনে শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলমানদের ওপর দমনপীড়নের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, চীনের ইতিহাসে এমন দমনপীড়নের নজির নেই। তবে চীন সরকার শিনজিয়াং প্রদেশে সব রকম দমন অভিযানের কথা অস্বীকার করে আসছে।

তিব্বতের মতো শিনজিয়াংও স্বায়ত্তশাসিত এলাকা হিসেবে পরিচিতি। কাগজে কলমে বেইজিং-এর বাইরেও তারা নিজেদের মতো করে অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই দুটো অঞ্চলই চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।