sentbe-top

মেয়েকে নিয়োগ দিতে রাবি ভিসির কাণ্ড!

ruমেয়ে সানজানা সোবহানকে নিয়োগ দিতে নিজেই ছুটে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেধায় ঠাঁই মেলেনি। এরপর রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও মৌখিক পরীক্ষার দিন মেয়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন। রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের মাধ্যমে সেখানকার ভিসিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তাতেও হালে পানি পাননি। একাডেমিক পজিশন (মেধা তালিকা) না থাকায় সানজানার চাকরি দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ইসলামী ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, এমন প্রচার রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে। তাতেও হাল ছাড়েননি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান।

অভিযোগ উঠেছে মেয়েকে নিয়োগ দিতে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই খুললেন নতুন বিভাগ! অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা পরিবর্তন করে মেয়ে সানজানা সোবহানকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিলেন বাবা আবদুস সোবাহান।

আরও অভিযোগ উঠেছে পরিবর্তিত নীতিমালার সুযোগে মেয়ের জামাই এটিএম সাহেদ পারভেজকেও নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করছেন উপাচার্য সোবহান। আগামী ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ (ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) প্রভাষক পদে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন সাহেদ পারভেজ।

নীতিমালা পরিবর্তন করে নিজ মেয়েকে এভাবে নিয়োগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, ইতিপূর্বে নিয়োগ বিতর্কে থাকা এ উপাচার্য মেয়েকে নিয়োগ দিতে চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক উপাচার্য বলেন, তিনি (উপাচার্য আবদুস সোবহান) স্বেচ্ছাচারিতা এবং নীতিহীনতার সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। দু’তরফা দায়িত্বে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছেন প্রায়। বিশেষ বিবেচনায় শত শত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এর আগেই বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। এবারে নীতিমালা পরিবর্তন করে মেয়েকে নিয়োগ দিয়ে সেই বিতর্কে ঘি ঢাললেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬২তম সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয় যেকোনো বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভাগীয় একাডেমিক মেধা তালিকায় ১ম থেকে ৭ম অবস্থানে থাকতে হবে। কিন্তু মার্কেটিং বিভাগ থেকে পাস করা সানজানা সোবহান ১ম থেকে ৭ম অবস্থানে তো দূরের কথা, ন্যূনতম মেধা তালিকাতেও অবস্থান করতে পারেননি।

আর সেই মেয়েকে নিয়োগ দেয়ার বিধিব্যবস্থা পোক্ত করতেই গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ৪৭৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা থেকে একাডেমিক পজিশন (মেধা তালিকা) বাদ দেন। আর তাতে করেই কপাল খুলে যায় সানজানার। ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট’নামের নতুন বিভাগ খুলে তাতে মেয়ের নিয়োগ সম্পন্ন করেন গত ৪ অক্টোবর। সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীরাও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন সোবহানের হস্তক্ষেপে।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পালা। অথচ মেয়ে এবং মেয়ের জামাইয়ের নিয়োগ সম্পন্ন করতেই তড়িঘড়ি করে নীতিমালা পরিবর্তন করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া একাধিক প্রার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের নামে কী নাটক হচ্ছে, তা পরীক্ষায় অংশ না নিলে বুঝতে পারতাম না। সব সাজানো মঞ্চ। চরিত্রও ঠিক করা। মেধার কোনো মূল্যায়নই নেই। মেধা গুরুত্ব পেলে শিক্ষক হওয়া তো দূরের কথা, উপাচার্যের মেয়ে সানজানা আবেদনই করতে পারতেন না।

সৌজন্যে- জাগো নিউজ

sentbe-top