sentbe-top

আমরা যদি না গড়ি কে গড়বে সোনার বাংলা?

swiden
লেখক সুইডেনের সঙ্গে সোনার বাংলার তুলনা করে ছবিটি পাঠিয়েছেন

আমরা দূরপরবাস থেকে বাংলাকে সোনার বাংলা করার স্বপ্ন দেখছি; ঘুমের ঘরে নয় কাজের মাধ্যমে। যারা বাংলাদেশে কর্মরত পেশাগত, শাসন, শোষন এবং ভাষনের সঙ্গে ভোজন করছেন তারা কীভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন?

প্রশ্ন করে রাখলাম উত্তর পরে দিলেও হবে। আসুন তার আগে জেনে নেই সুইডেনের সম্বন্ধে কিছু বাস্তব তথ্য। এই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সুইডেনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।

কিছু জটিলতার কারণে এখনও তারা নতুন সরকার গঠন করতে সক্ষম হতে পারেনি। তবে আলোচনা পর্যালোচন চলছে। সামান্য লোকবসতির (এক কোটি মানুষের) দেশ সুইডেন।

তার পর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাকস্বাধীনতা, নিরাপত্তা, গণতন্ত্রের ওপর মৌলিক অধিকার, সব কিছু থাকা সত্বেও কেন তারা নতুন সরকার গঠন করতে পারছে না? জটিলতা কোথায়?

একটি বিষয় বেশ পরিস্কার তা হলো এরা এদের আলোচনায় “এগ্রি টু ডিজএগ্রি” কোন রকম খুন-খারাপি বা জেল হাজত ছাড়াই। সুইডেন গণতন্ত্রের শীর্ষে অবস্থিত বেশ বড় একটি দেশ প্রচুর ধন সম্পদে ভরা এবং আয়তনে বাংলাদেশের তুলনায় তিনগুন বড়।

ডিজিটালের বেস্ট প্রাকটিসের মাধ্যমে সব কিছু সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রন করছে, কোন প্রকার কারচুপির বালাই নেই। সত্যি কথা বলতে এদের একটিই সমস্যা তা হলো কোন সমস্যা নেই, আমার মতে যদি তুলনা করি বাংলাদেশের সঙ্গে।

এর পরও নিশ্চিত এদের মাঝে রয়েছে হাজারও সমস্যা। হয়ত তারা তাদের সমস্যার সমাধান ঠিক সময়ে করতে সক্ষম হচ্ছে না। একটি জিনিস ক্লিয়ার করা প্রয়োজন তাহলো রাজনীতি সত্যিকারে একটি নীতি এবং এটা জাস্ট যে কোন একটি প্রতিষ্ঠানের মত।

যেমন যদি কেউ পাইলট হতে চায় তাকে সেভাবে তৈরি হতে হবে। যদি কেউ ডাক্তার হতে চায় তাকে সেভাবে তৈরি হতে হবে। যদি কেউ আর্টিস্ট হতে চায় তাকে সেভাবে তৈরি হতে হবে। যদি কেউ ইন্ডাস্ট্রি প্রভাইডার হতে চায় তাকে সেভাবে তৈরি হতে হবে। যদি কেউ শিক্ষক হতে চায় তাকে সেভাবে তৈরি হতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অতএব যারা এখানে রাজনীতি করে এরা এদের জীবনের শুরুতেই এই পথটি বেছে নিয়েছে এবং সেভাবে এরা তৈরি হয়েছে এই পেশাতে কাজ করার জন্য।

বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ অথচ লোকসংখ্যায় খুবই ঘনবসতিপূর্ণ, তার ওপর সিমীত সুযোগ সুবিধার সমন্বয়ে দেশের ভৌগলিক পরিচয়। এখানে না আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ বনজ সম্পদ, কৃষিক্ষেত্র, খনিজ সম্পদ, জল সম্পদ, কর্ম সংস্থান। তার পরে দেশটি জুড়ে রয়েছে, দুর্নীতি, কু-নীতি, অর্থনীতি, সুনীতি, গুম, খুন, রাহাজানি, হয়রানি, শিক্ষা, সুশিক্ষা, কুশিক্ষা, চোর, ডাকাত, ডাক্তার, কবিরাজ, বেকার, সকার, কু-কর্ম কর বলতে হয় সব কিছুতে পরিপূর্ণ।

এমন একটি দেশে যদি রাজনীতিতে সব সেক্টরের লোক ঢোকে এবং তারা নেতৃত্ব দিতে চায়, কি মনে হয়? সম্ভব কি সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা? তার পর একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান হতে যদি ৭০-৯০ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয় পাশ করতে! তাহলে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে জাতীয় সংসদ দির্বাচনে একজন এমপি হতে হলে? কিভাবে বিশ্বাস করা যেতে পারে যে, এরা যে অর্থ ব্যয় করছে তা ফিরে পাবে না? একই সঙ্গে ভাবতে হবে বিরোধী দলের প্রার্থীরাও কিন্তু সমপরিমাণ বা বেশিও হতে পারে অর্থ ব্যয় করেছে।

বসে থাকবে কি লস মেনে নিয়ে? এখন পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি বা বেসরকারিভাবে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হবে যার যার এলাকাতে কি মনে হয় কতটা উন্নতি হবার সম্ভবনা আসা করা যেতে পারে?

আমার লেখার শুরুতে যে প্রশ্ন করেছি হয়ত উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে এখন। দুঃখের ব্যাপার যারা আজীবন কর্মরত ছিল বড় বড় পজিশনে তারা এবং বড় বড় শিল্পপতি দেখা যাচ্ছে রাজনীতিতে আসছেন। তাদের চাকরি জীবনেই তো কত সুযোগ ছিল দেশের জন্য ভালো কাজ করা, তা না করে নতুন করে রাজনীতিতে এসে ভালো কিছু করবে এটা কি বিশ্বাস করা সম্ভব?

মনে হচ্ছে, ফেসবুকে দেখেছি একজন লিখেছে, যদি আবার ফিরে পাই মানব জনম আমার যৌবন তোমাকে দিব! তাই চাকরিজীবিদের ধারণা তারা আবার সুযোগ পেলে সব কিছু উজাড় করে দিবে।

প্রশ্ন, সংসদভবন বা ইউনিয়ন পরিষদ তো কোন ইন্ডাস্ট্রি, কৃষিক্ষেত্র, হাসপাতাল বা বিশ্ববিদ্যালয় নয় যে সেখানে গিয়ে কাজ করে অর্থ উপার্জন করার ব্যবস্থা রয়েছে। তাহলে কারণ কি থাকতে পারে যে সবাই সেখানে যেতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে?

সোনার বাংলা গড়তে হলে তো ফলন ফলাতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয় গোটাদেশের ওপর নজর দিতে হবে। মুজুরি এবং কর দিতে হবে, এবং এমপি হবে দেশের পলিসি ল মেকার এবং তাদের সে বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। রাজনীতি কি ফলন ফলানোর জায়গা? নাকি আইন-কানুন তৈরি করার জায়গা? এমপিদের প্রধান দায়িত্ব তো তৈরি আইন-কানুনকে বিতরণ করা এবং তা নিশ্চিত করা।

এখন যদি ভালো প্লান না থাকে, যদি ভালো সোর্স অব ইনকামের ব্যবস্থা না থাকে, যদি সুশিক্ষার সমন্বয়ে ভালো এবং ন্যায় সম্মত বিচার বিভাগ না থাকে, হবে কি সংসদে বসে ভালো ডিস্ট্রিবিউশন করা?

যেসব দেশে দুর্নীতির পরিমাণ বেশি সেখানে এমনটি সচারচর দেখা যাচ্ছে যে, তারা চাকরি জীবন শেষ করে রাজনীতিতে ঢুকে নতুন করে গরীবের হক মারতে রাজনীতির নামে নতুন করে ধান্দাবাজি করার প্লান করছে।

প্রশ্ন হচ্ছে- এদের সংখ্যা কত জন বাংলাদেশে? এবং এরা যদি সত্যি দেশ ও জাতীর জন্য কিছু করতে চায়; তাহলে তারা এখনই করতে পারে রাজনীতি ছাড়াই। ১৬ কোটি লোকের মধ্যে এসব সুযোগ-সুবিধাবাদি কর্মরতদের সংখ্যা কত?

আর যারা সর্বহারা, কি হচ্ছে তাদের জীবনে? কি করবে শেষ পর্যন্ত বাকি দুর্বল, অভাগা, নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায় মানুষগুলো? কত দিন, আর কত দিন দেরি করতে হবে এর উত্তর পেতে?

দানবের সঙ্গে মানবের তুলনা হলো- একজন মানব অন্য জন দানব। তাই মনে হয় সুইডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা একটাই তা হলো- দুটো ভিন্ন দেশ মাত্র। আজ ভাগ্যের লিখন তাই দূরপরবাস থেকে ভালোমন্দ দেখার সুযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পেরেছি। সব জেনেশুনেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করছি।

তাইতো মনে হয় ডিজিটালের যুগে আর কিছুর সঠিক হিসাবটি বাংলাদেশ থেকে না পাওয়া গেলেও কি পরিমাণ অর্থ দূরপরবাস থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছে সে হিসাবটি দেখে মনে হচ্ছে, যারা আমার মত দেশের বাইরে রয়েছে তাদের অবদানটি সত্যি সোনার বাংলা গড়ার এক ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি।

যদি এই প্রবাসীর সংখ্যা দ্বিগুণ করা যায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাহলে কী পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে আসবে? বড় স্বাদ জাগে জানতে এবং দেখতে কবে শুনব দেশের সবাই এমন করে ভাবছে সোনার বাংলা গড়ার কাজে।

চেয়ারম্যান বা এমপি না হয়ে কি দেশের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়? আমি বা আমার মত যারা বিদেশে এবং দেশে রয়েছে অনেকেই তো আমরা রীতিমত সুন্দর সুন্দর ভালো কাজ করছি আনন্দের সঙ্গে।

কোটি কোটি টাকা খরচ করে ইলেকশন না করে ওই টাকা দিয়ে এলাকার জন্য অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব এবং সে কাজ করলে শুধু দেশের নয়; নিজের মধ্যে সোনার বাংলার প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে। আমি প্রতিদিন এমনটি দেখি দূরপরবাস থেকে। আসুন সোনার বাংলা গড়ি একসঙ্গে, এমনটি প্রতিজ্ঞায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই।

লেখক: রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com
সৌজন্যে- যুগান্তর

sentbe-top