কে এই ডা. সানসিলা জেবরিন?

sansilaআসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. সানসিলা জেবরিন। কিন্তু কে এই জেবরিন?

নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া তথ্যানুযায়ী- ডা. সানসিলার জন্ম ১৯৯৩ সালের ২২ জুন। সে হিসেবে তাঁর বয়স ২৫ বছরের কিছু বেশি। তিনি ২০০৮ সালে এসএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাস করেন ২০১০ সালে। আর এমবিবিএস পাস করেন ২০১৬ সালে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী। পেশায় চিকিৎসক সানসিলা প্রার্থী হয়েছেন শেরপুর-১ (সদর) আসনে। তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. হযরত আলীর মেয়ে।

ধানমন্ডির আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. জেবরিন রাজনীতি নতুন মুখ হলেও এলাকায় পরিচিতি আছে তার। বিভিন্ন সময় তার নির্বাচনী এলাকায় বাবার হাত ধরে চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের সেবা দিতে বেশ কয়েকবার এলাকায় ঘুরেছেন। সে হিসেবে চরাঞ্চলের মানুষের কাছে কিছুটা হলেও ডা. জেবরিনের পরিচিতি রয়েছে।

জানা গেছে, হযরত আলী দীর্ঘ দিন থেকে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ডজন খানেক মামলার আসামি হয়ে প্রায় ৩ মাস ধরে কারাগারে আটক থাকায় ব্যাংক ঋণের ঝামেলামুক্ত হতে পারেননি তিনি। আর এ আসনে বিএনপির বাকি তিন প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল হওয়ায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে সানসিলার। তিনিই এই আসনে বিএনপির একমাত্র প্রার্থী।

এদিকে এই আসনে দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রার্থী পেলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি থেকে মো. নজরুল ইসলাম ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পর একই বছর ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নজরুল ইসলাম পুনরায় প্রার্থী হলেও নির্বাচিত হতে পারেননি।

জোটের রাজনীতির সমীকরণে পরের নির্বাচনগুলোতে এ আসনে ছাড় দিতে হয় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে।

এবার ধানের শীষের প্রার্থী পেয়ে খুশি স্থানীয় বিএনপি। নেতাকর্মীদের দাবি- ডা. প্রিয়াংকা বিভিন্ন সময় তার নির্বাচনী এলাকায় চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা দিয়েছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে তিনিই হবেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিকের মূল প্রতিপক্ষ।