cosmetics-ad

মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চান প্রবাসীরা

monjil

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) ইউকে শাখার উদ্যোগে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- এইচআরপিবি-এর কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও নারী নির্যাতনের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যেভাবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে তেমনিভাবে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে প্রবাসীদের মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।

অ্যাডভোকেট মোরসেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই প্রবাসীদের সমস্যা সম্পর্কে আন্তরিক হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি নেই। প্রবাসীদের বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধান না করলে দেশের বাহিরে থাকা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বাংলাদেশ থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে যার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে।

তিনি প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হবার আহ্বান জানান। ইস্ট লন্ডনের ব্রার্ডি আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ইউকে শাখার সভাপতি সাংবাদিক মো. রহমত আলী ও যৌথভাবে পরিচালনা করেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার কাউন্সিলর আয়াছ মিয়া ও এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি আবুল হোসেন।

monjilএ সেমিনারে অনেক ভুক্তভোগী পরিবার উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে প্রবাসীদের জায়গা-জমি সমস্যা, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, বিমানবন্দর ও কাস্টমসের হয়রানি, প্রবাসীদের হাইকমিশনের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড প্রদান, প্রবাসীরা যে দেশে আছেন সেখান থেকেই ভোটদানের ব্যবস্থা করা ও বাংলাদেশের পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর থেকে ১০ বছর বৃদ্ধি করা প্রভৃতি বিষয় সেমিনারে আলোচনা হয়।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বিশ্বনাথ-ওসমানী নগর আসনের এমপি মোকাব্বির খান, ক্রয়ডন কাউন্সিলের মেয়য় হুমাউন কবির, নিইহ্যাম কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার কাউন্সিলর আহবাব হোসেন, বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া।

এ ছাড়া এইচ আরপিবি জেদ্দা শাখার আহ্বায়ক এবিএম নূরুল হক, ফ্রান্স শাখার সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম, এইচআরপিবি কানাডার প্রতিনিধি সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, এইচআরপিবি আমেরিকার প্রতিনিধি মানবাধিকার কর্মী গোলাম সাদাত জুয়েল।

আরও বক্তব্য দেন- সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক স্পিকার আব্দুল মুকিত চুনু এমবিই, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, কাউন্সিলর শাহ সুহেল আমিন, কাউন্সিলর রাজীব আহমদ, কাউন্সিলর সদরুজ্জামান খান, কাউন্সিলর ফয়জুর রহমান, ড. রোয়াব উদ্দিন, মিসবাহ জামাল, মনজ্জির আলী, ডা. শানুর আলী মামুন, শাহনুর খান, আফসানা বেগম, সুরুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এন আইডি প্রাপ্তির ব্যাপারে বক্তারা উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা যেখানে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশের নানা অসময়ে সহযোগিতা করে আসছেন সেখানে এই কার্ড অন্যান্য দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার প্রস্তুতি নেয়া হলেও যুক্তরাজ্যে তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

অথচ এনআই কার্ড না থাকলে দেশে ব্যাংক, জমি ক্রয়, টেলিফোন মোবাইল সংযোগ স্থাপনসহ কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। প্রবাসীদের ভোটাধিকার না থাকলে প্রবাসীরা দেশের নাগরিকত্ব বলে গণ্য হবে না আর তখন তারা জায়গা-জমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হবেন।

সৌজন্যে- জাগো নিউজ