cosmetics-ad

সাকিব আর মাহমুদউল্লাহর মাঝে সেদিন কি ঘটেছিল?

shakib-mahmudullah

ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচে তার ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ পছন্দ হয়নি। আর আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচের আগে তিনি পুরোপুরি সুস্থ্ও ছিলেন না। তাই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কাছে সাকিব আল হাসান অনুরোধের সুরে বলেছিলেন-‘রিয়াদ ভাইকে রেস্ট দিন।’

পরে বিষয়টি ডালপালা গজিয়েছে। তা নিয়ে রাজ্যের কথাবার্তা শোনা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা, পর্যালোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। অনেকের কাছে এটা রীতিমত চাঞ্চল্যকর তথ্য বলেও মনে হয়েছে।

কিন্তু আসল কথা হলো, একটা দলের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটে। কোচ, অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক আর ম্যানেজার ও নির্বাচকরা বসে যখন একাদশ চূড়ান্ত করেন, তখন অনেকের বিষয়েই কথা হয়। এটা হয়ে আসছে। এখনো হয়। হয়তো আগামীতেও হবে।

মাশরাফির কাছে সাকিবের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে না খেলানোর অনুরোধটা ছিল ঠিক তেমনি। এবং সবচেয়ে বড় কথা হলো আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচের আগের দিন অফিসিয়াল প্রেস মিটে অধিনায়ক মাশরাফি আসেননি। এসেছিলেন কোচ স্টিভ রোডস।

মাশরাফি প্র্যাকটিস শুরুর আগে স্টেডিয়ামের এক কোণে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে কথা প্রসঙ্গে এবং উদাহরণ টানতে গিয়ে শতভাগ অফ দ্য রেকর্ড মানে না লিখার শর্তে বলেছিলেন, ‘আমার তো দিন প্রায় শেষ। এটাই শেষ বিশ্বকাপ। এরপর তো সাকিবই ক্যাপ্টেন হবে। সাকিব অধিনায়ক হলে কিন্তু অনেকেরই খবর আছে। সাকিব অধিনায়ক হিসেবে খুবই সিরিয়াস এবং হার্ড টাইপের। সে মাঠের পারফরম্যান্সকে খুব সিরিয়াসলি নেয়। কেউ এক ম্যাচ ভাল খেলতে না পারলে আর অ্যাপ্রোচটা ঠিক না থাকলে তাকে বাদ দিতেও দ্বিধা করবেনা। এই যেমন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহর স্লো ব্যাটিং (৩৮৭ রান তাড়া করে ৪১ বলে ২৮) দেখে তাকে এক ম্যাচ না খেলানোর কথা বলেছিল সাকিব।’

আর সবার মত এ প্রতিবেদকও ছিলেন ঐ আড্ডায়। এবং সবচেয়ে বড় কথা মাশরাফি তার হাত ধরে না লেখার অনুরোধ করেছিলেন। সে তথ্য প্রকাশিত না হলেও কেউ না কেউ তা লিখে ফেলেন। এবং তা নিয়ে খানিক মনোমালিন্যও সৃষ্টি হয়।

অস্ট্রেলিয়ার সাথে হারলেও মিচেল স্টার্ক, কামিন্সদের বিপক্ষে ১৩৮.০০ স্ট্রাইকরেটে ৫০ বলে ৬৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একটু বেশি রিয়্যাক্ট করে ফেলেছিলেন। এবং ড্রেসিং রুমে ফিরেও নাকি বেশ উচ্চবাচ্য করেন এবং তিনি ফুরিয়ে যাননি, তারও পর্যাপ্ত সামর্থ্য আছে ভাল খেলার-এসব কথা বলেন। সব মিলে ড্রেসিংরুমে একটু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটে।

বিশ্বকাপের সময় তিনি আর মিডিয়ার সাথে কথা বলেননি। কোন ইন্টারভিউ দেয়া দূরে থাক, কোন ম্যাচের আগে ও পরেও মাহমুদউল্লাহকে মিডিয়ার সাথে কথা বলতে পাঠানো হয়নি। তবে আজ (রোববার) অনেকদিন পর শেরে বাংলায় মিডিয়ার সামনে কথা বলতে এসে সেই প্রশ্নর মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

মাহমুদউল্লাহর দাবি, যা রটেছে, তেমন কিছুই হয়নি। ঘটনাটি নাকি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। দলের কারো সাথে তার কোনরকম গন্ডগোল হয়নি। ড্রেসিং রুমের পরিবেশও ঠিক ছিল।

এ সম্পর্কে মাহমুদউল্লাহর ভাষ্য এরকম, ‘আমার মনে হয়, ঐ ধরনের জিনিস নিয়ে কথাবার্তা না বলাই ভালো। আমি ঐ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। শুধু একটা কথা বলতে চাই। কিছু কিছু জিনিস যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে সেভাবে হয়নি। উপস্থাপন ভিন্নভাবে হতে পারতো। শুধু এটুকুই বলতে চাই। আমার মনে হয় না, দলের কারো সাথে আমার কোনও গণ্ডগোল হয়েছে। আমরা যথেষ্ট ভালো বন্ধু। ড্রেসিং রুমে আপনারা চাইলে আসতে পারেন, আমরা কিভাবে কথা বলি বা কিভাবে মজা করি দেখতে পারেন। আপনারা সবাই আমন্ত্রিত। ছোটো হোক বড় হোক, আমরা একে অপরের সাথে কতটুকু ভালোভাবে থাকতে পারি, দেখতে পারেন আপনারা। আমি আমার দিক থেকে শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি, আমি যেন সবার সাথে ভালোভাবে থাকতে পারি। সবসময় এই কথা বলে এসেছি। আমি চাই আগামী দিনেও এই কথা বলতে।’