cosmetics-ad

ভারতের মুসলিম রাষ্ট্রপতির স্বজনরাও আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ!

nrc-india

এনআরসিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় তোলপাড় শুরু হয়েছিল কারগিল যুদ্ধের মুসলিম সেনা অফিসারের নাম বাদ পড়ায়। এ রেস কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে উঠে আসল ভারতের সাবেক মুসলিম রাষ্ট্রপতির স্বজনদের বাদ পড়ার ঘটনা। সাবেক এ মুসলিম রাষ্ট্রপতির স্বজনরাও আজ রাষ্ট্রহীন!

মুসলিম রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমদ। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতের সাবেক সাংবিধানিক প্রধান ছিলেন। যিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে তার নিজ অফিসে মারা যান। যার নামে রয়েছে ২৫ রূপী মূল্যমানের ডাকটিকেট। তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন বাদ পড়েছে চূড়ান্ত করা নতুন নাগরিক তালিকায়। গত শনিবার আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তথা এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি স্বজনদের নাম।

গত বছর এনআরসি দ্বিতীয় খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিনের ছোট ভাইয়ের নাম। এ নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। সে সময় নাগরিকত্ব প্রমাণে এনআরসি থেকে যথাযথ নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। ত্রুটিমুক্ত নথিপত্র জমা দেয়া সত্ত্বেও নাগরিকত্ব প্রমাণে ব্যর্থ রাষ্ট্রপতির পরিবার ও আত্মীয় স্বজন।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত নাগরিক পঞ্জির দ্বিতীয় খসড়া তালিকায় বাদ পড়েন রাষ্ট্রপতির মৃতভাই একরামুদ্দিন আলি এবং ভাইয়ের ছেলে জিয়াউদ্দিন। অথচ রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিনের পরিবার কামরূপের রঙ্গিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সাদামাটা গ্রাম্য জীবন-যাপনকারী রাষ্ট্রপতির পরিবার নাগিরকত্ব হারাবে এ নিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধাও ছিল না তাদের।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তাদের তথ্য না থাকায় চরম হতাশায় ভুগছেন তারা। বংশ তালিকার যথাযথ প্রমাণপত্র পেশ করার পরও আসেনি তাদের নাম। তাদের সব উদ্যোগ নিষ্ফল। আশা ভেঙে চুরমার।

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি মুসলিম হওয়ায় যদি তার পরিবারই নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পরে তবে যুগের পর যুগ বসবাসকারী সাধারণ মুসলমানদের কী অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

রাষ্ট্রপতির পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের জিজ্ঞাসা- তবে কি এবার ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের দুয়ারে গিয়ে নিজেদের ‘বিদেশি’ তকমামুক্ত করতে হবে ফকরুদ্দিনের পরিবারকে?

আসামের এনআরসি থেকে ভূমিপুত্র থেকে শুরু করে হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিরাও বাদ পড়েছেন। তাহলে আসামে টানা ৬ বছরের কর্মযজ্ঞ কি শুধু মুসলিম নিধনেই কার্যকারী ছিল?