বুধবার । মার্চ ১১, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ১১ মার্চ ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

সৌদি আরবে বজ্রপাতে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু


rasel-mia

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জের এক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. রাসেল মিয়া (৪১) হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং লিয়াকত আলীর ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রাসেল মিয়া। পরে সহকর্মীরা বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে বাড়িতে শুরু হয় শোকের মাতম।

জানা যায়, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে দীর্ঘদিন নিজ এলাকায় মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন রাসেল মিয়া। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ধার-দেনা করে গত বছরের নভেম্বর মাসে সৌদি আরবে যান তিনি। সেখানে ‘মাজা আল আরাবিয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে বিদেশে যাওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বজ্রপাত তার জীবনের ইতি টেনে দেয়।

রাসেল মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করেন এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

নিহত রাসেল মিয়ার নিজস্ব কোনো জমি-জমা নেই। মাত্র তিন শতক জায়গার ওপর একটি ছোট্ট বাড়িতে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে তার সংসার ছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছে তার পরিবার।

স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন তার স্ত্রী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “এখন আমি কীভাবে চারটা সন্তান নিয়ে বাঁচব? কীভাবে সংসার চালাব এবং ধার-দেনার টাকা শোধ করব?”

নিহতের বড় মেয়ে, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান সাথী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমাদের ঈদের জামা-কাপড় কে কিনে দেবে? আমরা এখন কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাব?”

হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিছবাহ উদ্দিন মানিক রাসেল মিয়ার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা এবং তার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।