cosmetics-ad

দ.কোরিয়ায় ফেরি দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে ছিলেন থার্ড অফিসার

সিউল, ১৯ এপ্রিল ২০১৪:

দক্ষিণ কোরিয়ার কৌঁসুলিরা শুক্রবার জানান, দুই দিন আগে দুর্ঘটনা কবলিত দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরিটির দায়িত্বে ছিলেন থার্ড অফিসার। এ ঘটনায় মোট ২৬৮ জনের নিখোঁজ রয়েছে। এদের অধিকাংশই স্কুল শিক্ষার্থী। এখন পর্যন্ত ২৮ জনের প্রাণহানি ও ১৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকার পক্ষের কৌঁসুলি পার্ক জায়ে-এয়োক বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় জাহাজের দায়িত্বে ছিলেন থার্ড অফিসার।’

PYH2014041607530031500_P2

পার্ক এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংকালে বলেন, ‘যখন দুর্ঘটনা ঘটে তখন জাহাজের ক্যাপ্টেন দায়িত্বে ছিলেন না।’ ফেরিটি প্রায় ৫ শ’ জন যাত্রী নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যটন দ্বীপ জেজুতে যাওয়ার পথে ডুবে যায়। যাত্রীদের অধিকাংশই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে। ৪৬০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ফেরিটি পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর ইনচিওন থেকে রওনা হয়ে পর্যটন দ্বীপ জেজুতে যাচ্ছিল। রওনা দিয়ে ২০ কিলোমিটার অগ্রসর হওয়ার পর ফেরিটি ডুবে যায়। উদ্ধার অভিযানে কোরিয়ার প্রায় অর্ধ শতাধিক জাহাজ কাজ করছে, সাথে রয়েছে হেলিকপ্টার।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চাং হং ঊন উদ্ধার কাজে নিয়োজিত প্রত্যেককে আশা না ছেড়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে আমাদের আর একটি সেকেন্ড বা মিনিট সময় নষ্ট করার উপায় নেই। আমাদের সকল শক্তি দিয়ে উদ্ধার কাজ চালাতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের আমি ঘটনাস্থলে থেকে তত্বাবধান করার আহ্বান জানাচ্ছি। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধ জাহাজ ঘটনাস্থলের ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে সব রকম সহযোগিতা দেওয়ার জন্য। ধারনা করা হচ্ছিল যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছে তারা হয়ত ফেরির বিভিন্ন কম্পার্টমেন্টে আটকা থাকতে পারেন।

এএফপি’র এক খবরে বলা হয়, এই দুর্ঘটনায় যখন কয়েকশ যাত্রী আটকা পড়ে, তখন জাহাজের ক্যাপ্টেন লি জুন-সেওক জাহাজ থেকে সরে পড়েন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পার্ক বলেন, ‘লি জাহাজের পিছন দিকে ছিলেন।’ প্রধান কৌঁসুলি লি সেওং-ইয়ুন বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য যে বা যারা দায়ী তাদের জবাবদিহি করতে হবে।’ অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের ধারণা ফেরিটি কোন পাথরের সঙ্গে থাক্কা খেয়ে অথবা দ্রুত মোড় ঘোরানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফেরিটিতে দেড় শতাধিক যানবাহনসহ ভারী পণ্য ছিল। বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।