বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২২ জুলাই ২০২৫, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে না ফেরার দেশে মা


rajani-khatunরাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন রজনী খাতুন (৪০) নামে এক মা। মেয়ে ঝুমঝুমকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি। আগুন লাগার মুহূর্তে মেয়ে স্কুল ভবন থেকে বেরিয়ে এলেও রজনী দগ্ধ হন আগুনের লেলিহান শিখায়। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তার।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রজনীর নিজ জেলা মেহেরপুরের গাংনীর বাওট গ্রামে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদের মেয়ে রজনী দীর্ঘদিন ধরে স্বামী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। জহিরুলের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চর সাদিপুরে।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে উত্তরা দিয়াবাড়ির আকাশে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুলের এক ভবনে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ওই সময় স্কুল ছুটির পর মেয়েকে আনতে রজনী স্কুল এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

রজনীর ভাই আশিক জানান, মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মরদেহ কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “দুলাভাই জহিরুল ঢাকায় চাকরি করেন, তাই রজনী আপা মেয়েকে নিয়ে উত্তরায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রতিদিনের মতো মেয়েকে আনতে গিয়েই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।”

রজনীর মেয়ে ঝুমঝুম খাতুন (১২) মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনার সময় অন্যদের সহায়তায় সে ভবন থেকে বের হয়ে এলেও, ঝাঁপিয়ে পড়া মায়ের আর ফেরা হয়নি।

রজনীর আত্মত্যাগ আজ এক মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার করুণ উদাহরণ হয়ে রইল। এলাকার মানুষ বলছে, এমন সাহসী ভালোবাসা চিরকাল মনে রাখবে জাতি।