ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলা, কঠোর অবরোধ এবং ত্রাণ সরবরাহে মারাত্মক বাধার ফলে চরম মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। খাদ্য ও পানির তীব্র ঘাটতিতে অসহনীয় দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। ক্ষুধা ও অপুষ্টির করাল ছায়ায় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, তা কার্যত এক নজিরবিহীন দুর্ভিক্ষে রূপ নিয়েছে।
গাজায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে শতাধিক আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা। তারা বলছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ছে, মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
এএফপির বরাতে জেরুজালেম থেকে জানা গেছে, গত ২১ মাস ধরে চলমান সংঘাতে গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম খাদ্য সংকট ও মৌলিক চাহিদার ঘাটতির মুখে রয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ চালুর পর থেকেই জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। সংস্থাটি বলছে, জিএইচএফ-এর মাধ্যমে ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, গত তিন দিনে অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
‘সেইভ দ্য চিলড্রেন’, ‘অক্সফাম’, ‘এমএসএফ’-সহ ১১১টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, “গাজায় আমাদের সহকর্মীরা এবং সেবা গ্রহণকারী মানুষজন না খেয়ে মারা যাচ্ছেন।” তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি, সব স্থল সীমান্ত পথ খুলে দেওয়া এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সহায়তা বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, গাজায় প্রায় এক লাখ নারী ও শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং প্রতি তিনজনের একজন নিয়মিতভাবে দিনের পর দিন না খেয়ে কাটাচ্ছেন।
মে মাসের শেষ দিকে ইসরাইল কিছুটা সহায়তা অবরোধ শিথিল করলেও, এখনো গাজাবাসী খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ভয়াবহ ঘাটতির মুখে রয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, “গাজায় ফিলিস্তিনিরা যে ভয়াবহতার মধ্যে পড়েছে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সীমান্তের ভিতরে ও বাইরে টনকে টন সহায়তা সামগ্রী গুদামে পড়ে আছে, কিন্তু সেগুলো গাজাবাসীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ মিলছে না।
তবে ইসরাইল দাবি করছে, তারা ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে না। বরং হামাস সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে, এবং ত্রাণ লুট করে তা বেশি দামে বিক্রি করছে এবং ত্রাণ কেন্দ্রে জড়ো হওয়া লোকজনের ওপর গুলি চালাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ ২৮টি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলের ত্রাণ সরবরাহ নীতিকে ‘অমানবিক ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, ইসরায়েল ইচ্ছা করে গাজাবাসীদের জীবনযাপন ও মর্যাদাকে বিপন্ন করছে।




































