
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শোক ও স্মৃতি প্রকাশ করছেন। এই মিছিলে সামিল হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুলও। শৈশবের এক অমলিন স্মৃতির কথা স্মরণ করে পুতুল তাঁর ফেসবুক পাতায় প্রয়াত এই নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
স্মৃতির পাতায় ডুব দিয়ে পুতুল লিখেছেন ২০০৩ সালের কথা, যখন তিনি ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় দেশাত্মবোধক গানে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার সেই মুহূর্তের একটি ছবি শেয়ার করে পুতুল জানান, সেটিই ছিল তাঁর জীবনে প্রথমবার প্রিয় এই ব্যক্তিত্বকে খুব কাছ থেকে দেখা ও ছোঁয়া। তাঁর ভাষায়, পুরস্কার জেতার আনন্দের চেয়েও বড় ছিল খালেদা জিয়ার ‘তুলতুলে হাত’ ছুঁতে পারার সেই অভূতপূর্ব অনুভূতি। ধূসর চুল আর শুভ্র শাড়ির সেই আভিজাত্য দেখে পুতুলের মনে হয়েছিল, এক মোম দিয়ে গড়া মানবী যেন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে হাসছেন। বড় হয়ে পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবেও খালেদা জিয়ার সামনে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন পুতুল। সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, গান শেষে নেত্রীর স্নেহমাখা আচরণ বুঝিয়ে দিয়েছিল তিনি কতটা সংস্কৃতিপ্রেমী ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়াকে লাখো তরুণীর অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে পুতুল তাঁর লেখায় আরও বলেন, তিনি এ দেশের লাখো তরুণীকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন সাধারণ একজন গৃহবধূ হয়েও আত্মবিশ্বাসের জোরে অসাধারণ হয়ে ওঠা যায়। শুধু অসাধারণ নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়। জন্মসূত্রে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট না থাকলেও যে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া যায়, সেই ধারণার সার্থক রূপ দিয়েছেন তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে। একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে পুতুল প্রার্থনা করেন, ‘ভালো থাকবেন মাননীয়া, ইতিহাস আপনাকে মনে রাখবে।’








































