রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির ঢল


india-ijtema

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। হুগলি জেলার দাদপুর থানার পুইনান গ্রামে আয়োজিত এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ইতোমধ্যেই ঐতিহাসিক রূপ নিয়েছে। লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দান পরিণত হয়েছে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলায়।

তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে গত ২ জানুয়ারি শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব ইজতেমা চলবে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ এবং ভারতের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণে প্রায় ৯ হাজার বিঘা জমিতে গড়ে তোলা ইজতেমা ময়দান জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। পুরো আয়োজন ঘিরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ইজতেমায় অংশ নিতে আসা মুসল্লিরা জানান, তিন দশকেরও বেশি সময় পর এই বাংলার মাটিতে এমন বিশাল ইসলামী সমাবেশে অংশ নিতে পারা তাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের। শীত উপেক্ষা করে তারা টানা চার দিন ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করছেন। মুসল্লিদের ভাষ্য, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করতে এখানে সমবেত হয়েছেন।

এই বিপুল ধর্মীয় সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রথম দিন, জুম্মার দিন থেকেই ইজতেমা ময়দানে মানুষের ঢল নামে। আয়োজকদের হিসাবে, প্রথম দিনেই ১৮ থেকে ২০ লাখের বেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেন।

ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) ময়দান পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ ধর্মীয় সম্প্রীতির পীঠস্থান। এখানে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করেন। শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ তিনি আরও জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিরা যেন কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, হুগলি জেলার জেলা শাসক খোরশেদ আলি কাদেরী, জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন, ধনিয়াখালির বিধায়িকা অসীমা পাত্র, সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌসী বেগমসহ প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

আগামী মোহতারম হযরতজি মাওলানা সাদসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা আলেম ও মুরব্বিরা বয়ান করবেন। ৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় চার দিনব্যাপী এই ধর্মীয় সমাবেশের সমাপ্তি ঘটবে। আয়োজকদের ধারণা, শেষ দিনে প্রায় এক কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে চার দিনে প্রায় ২০ লাখ মুসল্লির উপস্থিতির আশা করা হলেও জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মুসল্লির সমাগম রেকর্ড করা হয়েছে। বাকি দুই দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আয়োজকদের মতে, বিশ্ব ইজতেমা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির প্রতীক। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব ইজতেমা সবার দৃষ্টি কেড়েছে।