
সুপার কাপ জয়ের পর বার্সার উল্লাস আর রিয়ালের হতাশা। ছবি: সংগৃহীত
জেদ্দায় উত্তাপ–উত্তেজনায় ভরা এল ক্লাসিকোতে শেষ হাসি হাসল এফসি বার্সেলোনা। ভাগ্যছোঁয়া এক নাটকীয় গোলে ম্যাচের নায়ক বনে যান রাফিনিয়া, আর তার গোলেই স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা ঘরে তোলে কাতালানরা। যদিও পুরো ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচের শুরুটা ছিল সতর্ক ও ধীরগতির। প্রথম ১৫ মিনিটে ঝুঁকি কম রেখে ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করে দুই দল। এরপরই গতি বাড়ান ভিনিসিয়ুস। দুর্দান্ত ড্রিবল আর গতিতে বার্সেলোনার রক্ষণ ভেঙে বড় হুমকি তৈরি করেন তিনি, তবে গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া তা রুখে দেন।
বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে কিছুটা ধীরতা ছিল বার্সার। প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। ইয়ামালের ক্রস থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই রদ্রিগোর ভুলে পাওয়া রিবাউন্ড থেকে নিখুঁত শটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
চাপের মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদ সমতায় ফেরে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একক নৈপুণ্যে দারুণ এক গোল করে ম্যাচে ভারসাম্য ফেরান। তবে নাটক তখনও বাকি। পেদ্রির পাস থেকে রবার্ট লেভানডভস্কি গোল করলে আবার এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বিরতির আগে গনজালোর শট পোস্টে লেগে ঢুকে গেলে ম্যাচে ফেরে রিয়াল।
দ্বিতীয়ার্ধে এল ক্লাসিকো ফিরে পায় তার চেনা রূপ—তীব্র গতি, শারীরিক লড়াই আর উত্তেজনা। ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগো বারবার বার্সার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন, আর জোয়ান গার্সিয়াকে একাধিকবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন রাফিনিয়া। বক্সের কিনারায় পড়ে গিয়েও নেওয়া তার শট ডিফ্লেকশনে দিক বদলে যায়, ভুল পায়ে পড়ে যান থিবো কোর্তোয়া। ওই নাটকীয় গোলেই তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে যায় বার্সেলোনা—এবার আর সমতায় ফেরার সুযোগ পায়নি রিয়াল।
শেষ মুহূর্তে সমতার সুযোগ এলেও দৃঢ়তায় রুখে দেন জোয়ান গার্সিয়া। নাটকীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক এল ক্লাসিকোর শেষে স্প্যানিশ সুপার কাপের ট্রফি ওঠে বার্সেলোনার হাতে—রাফিনিয়ার নায়কোচিত গোল আর ভিনিসিয়ুসের ঝলক ম্যাচটিকে করে তোলে স্মরণীয়।














































