
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি জাহাজে চালানো সর্বশেষ মার্কিন সামরিক হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের সামরিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা ইউএস সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সাউথকমের দাবি, ওই অভিযানে দুইজন ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু জাহাজটি কিংবা নিহত ব্যক্তিরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
নাগরিক হতাহতের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ারওয়ারস জানায়, প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে জাহাজ লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন হামলায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪টি ঘটনায় ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ হামলার ফলে এই সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১২৮ জনে দাঁড়াল।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এসব হামলাকে ব্যাপকভাবে অবৈধ বলে নিন্দা জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মাদক পাচারকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে এসব সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার কর্মী ও আঞ্চলিক নেতারা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তাঁদের মতে, এ ধরনের হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল এবং এসব অভিযানের পক্ষে কোনো সশস্ত্র সংঘাতের বৈধ আইনি ভিত্তি নেই।
এর আগে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত বেন সল বলেন, সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী বা মাদক চক্রকে হত্যার উদ্দেশ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কোনো বৈধতা আন্তর্জাতিক আইনে নেই।
সাউথকম সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি একটি জাহাজে হামলা চালায়, যেখানে অন্তত দুইজন নিহত হন। সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিহত ১২৬ জনের মধ্যে ১১৬ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এছাড়া হামলার পর ১০ জন নিখোঁজ থাকায় তাদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এ ধরনের এক হামলায় নিহত কলম্বিয়ার নাগরিক আলেহান্দ্রো কারাঞ্জার পরিবার তার কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পরিবারের দাবি, তিনি ছিলেন একজন জেলে এবং পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কাজ করতেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটসের (আইএএইচআর) কাছে একটি আইনি অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ঘটনার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা অত্যন্ত কঠিন হবে।
সূত্র: আলজাজিরা




































