রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২ মার্চ ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: লাফিয়ে বাড়ছে সোনার দাম


gold

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে সোনার দাম। নতুন করে তীব্র হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান এ ধাতুর বাজারে।

সোমবার (২ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩২৯.৩৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা চার সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেশনের শুরুতে একপর্যায়ে দাম ২ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩৪২.৮০ ডলারে পৌঁছায়।

রোববার ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে হামলা চালালে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার দিকে গড়াতে পারে।

ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, আগের উত্তেজনার তুলনায় এবার উভয় পক্ষের সংঘাত বাড়িয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেশি, যা সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদের জন্য ইতিবাচক।

সোনাকে ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ান। চলতি বছর ইতিমধ্যেই স্বর্ণের দাম একের পর এক রেকর্ড গড়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই এর দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় আকারের ক্রয় এবং এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রবাহ বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে।

বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান জে পি মরগান ও ব্যাংক অব আমেরিকা পূর্বাভাস দিয়েছে, স্বর্ণের দাম শিগগিরই ৬,০০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। জে পি মরগানের মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই দাম প্রতি আউন্স ৬,৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, “বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে স্বর্ণ কাজ করছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।”

তবে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৯২.৭২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ১ শতাংশ কমলেও প্যালাডিয়াম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৭৯৫.১১ ডলারে পৌঁছেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন, যা আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।