
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পূর্বঘোষিত দুটি সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পূর্বঘোষিত ডিন ও প্রভোস্ট ক্যাটাগরির দুটি সিন্ডিকেট নির্বাচন স্থগিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পরে রাত ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি হয়ত প্রশাসনকে নিজের মতো করে গুছাবেন। ওই জায়গা থেকে তিনি মনে করেছেন, নির্বাচন স্থগিত করে পরে দেবেন। সে অনুযায়ী স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এটা উপাচার্যের ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। নির্বাচনের তফসিলও বিদায়ি উপাচার্যের নির্দেশেই দেওয়া হয়েছিল।
প্রথম স্থগিতাদেশে বলা হয়, গত ৪ মার্চ জারি করা নির্বাচনি বিজ্ঞপ্তি-০১ অনুযায়ী সিন্ডিকেটে ডিন ক্যাটাগরির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম অনিবার্য কারণবশত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্য স্থগিতাদেশে বলা হয়, গত ৩ মার্চ জারি করা নির্বাচনি বিজ্ঞপ্তি-০১ অনুযায়ী সিন্ডিকেটে প্রভোস্ট ক্যাটাগরির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনসংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমও অনিবার্য কারণবশত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৩ ও ৪ মার্চ চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে ডিন ক্যাটাগরির একজন এবং প্রভোস্ট ক্যাটাগরির একজন সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনের তফশিল প্রকাশ করা হয়। তফশিল অনুযায়ী, ডিন ক্যাটাগরির নির্বাচন আগামী ১৫ এপ্রিল এবং প্রভোস্ট ক্যাটাগরির নির্বাচন আগামী ১২ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। তফশিলে বলা হয়েছিল, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার এ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন।”
তবে ডিন নির্বাচন না দিয়েই, উপাচার্য মনোনীত অনির্বাচিত ডিনদের নিয়ে ডিন ক্যাটাগরির একজন সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ একে অনৈতিক ও বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থি বলেও অভিযোগ তোলেন। অনেকের মতে, এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ৩০(৬) ধারা লঙ্ঘনের আশঙ্কা ছিল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ৩০(৬) ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি অনুষদের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট অনুষদের অধীন বিভাগসমূহের সব শিক্ষকের ভোটে একজন ডিন নির্বাচিত হওয়ার কথা। নির্বাচিত ডিনের মেয়াদ দুই বছর। তবে প্রভোস্ট পদটি কোনো নির্বাচিত পদ না হওয়ায় এই ক্যাটাগরির নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক ছিল না।
ডিন ক্যাটাগরির নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরির নির্বাচিত সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, “প্রথমে ডিন নির্বাচন দিয়ে পরে নির্বাচিত ডিনদের মধ্য থেকে ডিন ক্যাটাগরির সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বিগত প্রশাসন তা করেনি।”
নির্বাচন স্থগিতের কারণ জানতে চাইলে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “আমি মাত্রই দায়িত্বে এসেছি। সবকিছু গুছানোর জন্য একটু সময় প্রয়োজন। আমরা দ্রুতই সিন্ডিকেট নির্বাচনের ঘোষণা দেব, ইনশাল্লাহ।”
তবে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০টি অনুষদ ও ১৪টি আবাসিক হল রয়েছে। এ বাস্তবতায় ডিন ও প্রভোস্ট উভয় ক্যাটাগরির প্রতিনিধিত্ব সিন্ডিকেটে প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরদিন ১৭ মার্চ তিনি চবির উপাচার্য পদে যোগদান করেন।







































